রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সমঝোতা স্মারক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা, সম্পদ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে পারস্পরিক স্বার্থে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকের সাইডলাইনে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারিভাবে কাজ করে এ কমিশন।

ঢাকায় সফররত রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ। তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর অর্থ পরিশোধব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখে থাকায় বিকল্প লেনদেন অবকাঠামোর গুরুত্ব বেড়েছে।

জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন ইলিয়া শেস্তাকভ। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা পূরণে সহায়তা এবং দেশের তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতে রাশিয়া প্রস্তুত।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো যৌথভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, টুপি, আসবাবপত্র ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে গম, সার, কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম আমদানি করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্প নির্মাণে রাশিয়া আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের এ প্রকল্প দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষি খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে কার্যকর অর্থ পরিশোধব্যবস্থা, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি।

করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ কাঞ্চন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাঙ্গাইলের পাঠানপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার কাঞ্চন মিয়া করিমগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত শাজাহান ওরফে ইসমাইলের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামছুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী।

সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলমসহ অন্যরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, বেকারত্ব দূর করা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সমবায় কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সমবায় সমিতিগুলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

বক্তারা সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সমবায় সমিতির সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান

কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে কিশোরগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে শহরের খরমপট্টি এলাকার সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিপি অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নবীউল ইসলাম এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপসহকারী নিবন্ধক শাহানারা হাসিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায় শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। সমবায়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমবায় সমিতিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সমবায়ের আদর্শ ও চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।