নিকলীতে জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ৯ শিক্ষক, ৭ শিক্ষার্থী; আমন্ত্রণ পাননি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা
কিশোরগঞ্জের নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কলেজের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭জন। মঞ্চে ছিলেন ৯জন শিক্ষক। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবসের অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে আয়োজন করায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কলেজের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের মঞ্চে নয়জন শিক্ষক বসে আছেন। তাঁদের সামনে দর্শকসারিতে ছয়জন ছাত্রী ও একজন ছাত্র উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পরনে কলেজের নির্ধারিত পোশাক ছিল না। এ কারণে উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ তাঁদের শিক্ষার্থী, নাকি বহিরাগত—তা নিয়েও আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু জানান, এ বিষয়ে তাঁকে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ওয়াসিমুল হক এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে জানান, সংসদ সদস্যকেও অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীপক কুমার বিশ্বাস। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জে। কলেজের অনুষ্ঠান আয়োজন ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হতো না। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আয়োজিত প্রথম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানেও বিএনপির কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ নভেম্বর কলেজে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেই আয়োজন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে যে ধরনের তৎপরতা দেখা যেত, বর্তমান সরকারের আমলে তা দেখা যাচ্ছে না। কলেজের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, আগে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অন্তত তিন দিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের জানানো হতো। কিন্তু জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়নি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস টিটু, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক কৃষ্ণ কুমার সাহা এবং সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক ইসরাম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে আপ্যায়নের কোনো ব্যবস্থাও ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের আয়োজনের মান ও গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একক সিদ্ধান্তে কলেজ পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউ কেউ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘৮ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার বিষয়টি কলেজের ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছিল। তারপরও অনেকে উপস্থিত হননি।’













Disqus comments are not configured yet.