রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

নিকলীতে জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ৯ শিক্ষক, ৭ শিক্ষার্থী; আমন্ত্রণ পাননি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিকলীতে জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ৯ শিক্ষক, ৭ শিক্ষার্থী; আমন্ত্রণ পাননি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা

কিশোরগঞ্জের নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কলেজের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭জন। মঞ্চে ছিলেন ৯জন শিক্ষক। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবসের অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে আয়োজন করায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কলেজের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের মঞ্চে নয়জন শিক্ষক বসে আছেন। তাঁদের সামনে দর্শকসারিতে ছয়জন ছাত্রী ও একজন ছাত্র উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পরনে কলেজের নির্ধারিত পোশাক ছিল না। এ কারণে উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ তাঁদের শিক্ষার্থী, নাকি বহিরাগত—তা নিয়েও আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু জানান, এ বিষয়ে তাঁকে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ওয়াসিমুল হক এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে জানান, সংসদ সদস্যকেও অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীপক কুমার বিশ্বাস। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জে। কলেজের অনুষ্ঠান আয়োজন ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হতো না। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আয়োজিত প্রথম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানেও বিএনপির কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ নভেম্বর কলেজে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেই আয়োজন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে যে ধরনের তৎপরতা দেখা যেত, বর্তমান সরকারের আমলে তা দেখা যাচ্ছে না। কলেজের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, আগে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অন্তত তিন দিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের জানানো হতো। কিন্তু জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়নি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস টিটু, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক কৃষ্ণ কুমার সাহা এবং সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক ইসরাম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে আপ্যায়নের কোনো ব্যবস্থাও ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের আয়োজনের মান ও গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একক সিদ্ধান্তে কলেজ পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘৮ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার বিষয়টি কলেজের ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছিল। তারপরও অনেকে উপস্থিত হননি।’

করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ কাঞ্চন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাঙ্গাইলের পাঠানপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার কাঞ্চন মিয়া করিমগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত শাজাহান ওরফে ইসমাইলের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামছুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী।

সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলমসহ অন্যরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, বেকারত্ব দূর করা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সমবায় কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সমবায় সমিতিগুলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

বক্তারা সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সমবায় সমিতির সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান

কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে কিশোরগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে শহরের খরমপট্টি এলাকার সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিপি অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নবীউল ইসলাম এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপসহকারী নিবন্ধক শাহানারা হাসিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায় শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। সমবায়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমবায় সমিতিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সমবায়ের আদর্শ ও চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।