নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে মাধ্যমিকের ২৯ শতাংশ বই ছাপা বাকি
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। অথচ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের প্রায় ২৯ শতাংশ এখনো ছাপা হয়নি। বিপরীতে প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণের কাজ প্রায় শেষ। ফলে নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাধ্যমিকের বই ছাপা ও সরবরাহ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে। এসব বইয়ের ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ সরবরাহও সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিকের বই মুদ্রণ ও বিতরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি এখনো ৭১ শতাংশের কিছু বেশি। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফার দরপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি ছাপা হয়েছে। সরবরাহের হার ৬৫ শতাংশের বেশি। ফলে মাধ্যমিকের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বই ছাপা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর কাজ এখনো বাকি।
এনসিটিবির লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ বই ছাপিয়ে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে হলে অবশিষ্ট সময়ে মুদ্রণ ও পরিবহন—দুই ক্ষেত্রেই গতি বাড়াতে হবে।
বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ থেকে গত দুই শিক্ষাবর্ষে অনেক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে। সময়মতো বই ছাপা ও সরবরাহ করতে না পারায় পাঠদান কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে শতভাগ বই সরবরাহ করতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছায়। তার আগের শিক্ষাবর্ষে বই বিতরণ সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল।
এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে আগেভাগেই মুদ্রণকাজ শুরু করেছে এনসিটিবি। প্রাথমিকের বই ছাপা প্রায় শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মাধ্যমিকের বই ছাপায় বেশি মনোযোগ দিতে পারছে। একই সঙ্গে দ্রুত বই বাঁধাই, কাটিং ও মান যাচাইয়ের কাজ শেষ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স
এবারের বই বিতরণ কার্যক্রমে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও চারটি বই। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বই চারটির মোট সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এগুলো ছাপার জন্য ৮ নভেম্বর মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার কথা রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মুদ্রণকাজ শুরু হবে। এসব বই আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ সাধারণ পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নতুন চারটি বইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপিয়ে সরবরাহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের জন্য প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার বই এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২২ কোটির বেশি বই রয়েছে।
সব মিলিয়ে বই ছাপা ও সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বইও এ কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন মাধ্যমিকের বইয়ে বেশি সময় দিতে পারবে। প্রাথমিকের বই চার রঙে এবং মাধ্যমিকের বই এক রঙে ছাপানো হয়। ফলে মাধ্যমিকের বাকি বই ছাপার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসেরের আশা, এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে মুদ্রণের অগ্রগতি আর শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো এক বিষয় নয়। বাকি বই ছাপা, বাঁধাই, মান যাচাই, পরিবহন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্নে শেষ করতে না পারলে নতুন বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই বিতরণের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।













Disqus comments are not configured yet.