বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডায় নষ্ট হচ্ছে স্কুল পরিবেশ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় সন্ধ্যার পরপরই বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবাধে প্রবেশ করে রাতভর আড্ডা, মাদক সেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হলেও যথাযথ নজরদারি নেই প্রশাসনের। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
রোববার (১৬ নভেম্বর) স্বল্প যশোদল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়—বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ, খালি বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং মাদকসেবীদের বসার জন্য খড় ছড়ানো রয়েছে।
স্কুলের শিক্ষার্থী নিলা আক্তার বলে, “প্রায়ই বারান্দায় সিগারেটের সুকা আর খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখি। খুব খারাপ লাগে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কালার বাপ জানান, এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতার কারণে অপরাধ বাড়ছে। “ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুলিশি টহল খুব দরকার।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ছোটখাটো মাদকসেবী ধরে কোনো লাভ নেই—যাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব ব্যবসা চলে, তাদের গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি বদলাবে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি জানান, “রাত হলেই বখাটেদের আড্ডা বসে। সকালে এসে দেখি বারান্দা ও ছাদজুড়ে ময়লা-আবর্জনা। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
যশোদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন বলেন, “মাদকসেবন ও বিক্রি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এখনই প্রতিরোধ করা না গেলে মাদক সমাজকে পুরোপুরি গ্রাস করবে।”
জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার মাকছুদা জানান, বিষয়টি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। “এর আগে কেউ জানায়নি। পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।”
সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব বিদ্যালয়ে সমস্যা আছে সেখানে নিয়মিত টহল বাড়ানো হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”







