হাওরে ৩৩ কেভি লাইনে বাঁশের খুঁটি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরে এখন আর থইথই পানি নেই। তবে বিস্তীর্ণ হাওরের মধ্য দিয়ে টানা ৩৩ হাজার ভোল্ট (৩৩ কেভি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে। উচ্চ ভোল্টেজের এই লাইনের জন্য বাঁশ, কাঠ ও জিআই তার দিয়ে তৈরি খুঁটি ব্যবহার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, অষ্টগ্রামের বড় হাওরে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য ছয়টি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশের উপজেলা মিঠামইনের নবাবপুর হাওরেও একটি বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য বাঁশের খুঁটি ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের তৈরি স্থায়ী খুঁটি বসানোর দাবি জানান তাঁরা।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে অষ্টগ্রাম হাওরে ছয়টি সিমেন্টের খুঁটি পড়ে যায়। এতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক। এর আগে আগস্ট মাসে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের নবাবপুরে একটি খুঁটি পড়ে গিয়ে সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওরের পানিতে নৌকায় দাঁড়িয়ে ১২–১৪ জন শ্রমিক ও টেকনিশিয়ান দুই দিনে একটি করে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি তৈরি করেন। প্রতিটি খুঁটি নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁশের খুঁটির স্থলে নতুন সিমেন্টের খুঁটি বসানো হয় বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, মিঠামইন জোনাল অফিসের আওতায় অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন—এই তিন হাওর উপজেলায় ১০৮ কিলোমিটার ৩৩ কেভি এবং ৯৪৫ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এসব এলাকায় মোট গ্রাহক প্রায় ৮০ হাজার ৬৩৫ জন। এর মধ্যে অষ্টগ্রামে ৩৩ হাজার ৫১৩ জন, মিঠামইনে ২৭ হাজার ৬৫৩ জন এবং ইটনায় ১৯ হাজার ৩৬৯ জন গ্রাহক রয়েছেন।
বর্ষাকালে হাওরের পানিতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটি নরম হয়ে যায়। ফলে পানির স্রোত, ঝড়, নৌকা ও পর্যটকবাহী ট্রলারের ধাক্কায় খুঁটি হেলে পড়ে বা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এতে বিদ্যুতের তার পানিতে ছিঁড়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় কয়েক দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়, ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো গ্রাহক।
চার বছর আগে হাওরাঞ্চলে বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়া রোধে টেকসই স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে।
মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বিদ্যুৎ গ্রাহক ফরহাদ আহমেদ (৪০) বলেন, “পানির সময় খুঁটি পড়লে বাঁশের খুঁটি ছাড়া বিকল্প নেই, এটা আমরা বুঝি। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে।”
এ বিষয়ে মিঠামইন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা) মো. নবী উল হোসেন বলেন, “বর্ষাকালে হাওরে সিমেন্টের খুঁটি বসানো সম্ভব হয় না। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ীভাবে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এখন পানি নেমে গেছে, দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করা হবে।”




