বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

হাওরে ৩৩ কেভি লাইনে বাঁশের খুঁটি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওরে ৩৩ কেভি লাইনে বাঁশের খুঁটি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরে এখন আর থইথই পানি নেই। তবে বিস্তীর্ণ হাওরের মধ্য দিয়ে টানা ৩৩ হাজার ভোল্ট (৩৩ কেভি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে। উচ্চ ভোল্টেজের এই লাইনের জন্য বাঁশ, কাঠ ও জিআই তার দিয়ে তৈরি খুঁটি ব্যবহার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, অষ্টগ্রামের বড় হাওরে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য ছয়টি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশের উপজেলা মিঠামইনের নবাবপুর হাওরেও একটি বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য বাঁশের খুঁটি ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের তৈরি স্থায়ী খুঁটি বসানোর দাবি জানান তাঁরা।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে অষ্টগ্রাম হাওরে ছয়টি সিমেন্টের খুঁটি পড়ে যায়। এতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক। এর আগে আগস্ট মাসে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের নবাবপুরে একটি খুঁটি পড়ে গিয়ে সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওরের পানিতে নৌকায় দাঁড়িয়ে ১২–১৪ জন শ্রমিক ও টেকনিশিয়ান দুই দিনে একটি করে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি তৈরি করেন। প্রতিটি খুঁটি নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁশের খুঁটির স্থলে নতুন সিমেন্টের খুঁটি বসানো হয় বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, মিঠামইন জোনাল অফিসের আওতায় অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন—এই তিন হাওর উপজেলায় ১০৮ কিলোমিটার ৩৩ কেভি এবং ৯৪৫ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এসব এলাকায় মোট গ্রাহক প্রায় ৮০ হাজার ৬৩৫ জন। এর মধ্যে অষ্টগ্রামে ৩৩ হাজার ৫১৩ জন, মিঠামইনে ২৭ হাজার ৬৫৩ জন এবং ইটনায় ১৯ হাজার ৩৬৯ জন গ্রাহক রয়েছেন।

বর্ষাকালে হাওরের পানিতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটি নরম হয়ে যায়। ফলে পানির স্রোত, ঝড়, নৌকা ও পর্যটকবাহী ট্রলারের ধাক্কায় খুঁটি হেলে পড়ে বা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এতে বিদ্যুতের তার পানিতে ছিঁড়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় কয়েক দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়, ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো গ্রাহক।

চার বছর আগে হাওরাঞ্চলে বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়া রোধে টেকসই স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে।

মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বিদ্যুৎ গ্রাহক ফরহাদ আহমেদ (৪০) বলেন, “পানির সময় খুঁটি পড়লে বাঁশের খুঁটি ছাড়া বিকল্প নেই, এটা আমরা বুঝি। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে।”

এ বিষয়ে মিঠামইন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা) মো. নবী উল হোসেন বলেন, “বর্ষাকালে হাওরে সিমেন্টের খুঁটি বসানো সম্ভব হয় না। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ীভাবে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এখন পানি নেমে গেছে, দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করা হবে।”

নিকলীতে চোলাই মদ সেবনে অভিযান: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
নিকলীতে চোলাই মদ সেবনে অভিযান: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় চোলাই মদ সেবনের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রামের মৃত বাসির উদ্দিনের ছেলে মো. ফেরদৌস (৩২)।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চোলাই মদ সেবনের বিষয়টি স্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা মজুমদার মুক্তি। এ সময় নিকলী থানা পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

প্যারিসে গোলবন্যা, ৯ গোলের থ্রিলারে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্যারিসে গোলবন্যা, ৯ গোলের থ্রিলারে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

প্যারিসে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথম লেগের এই ম্যাচটি ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ভরপুর, যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়-পরাজয় নিয়ে ছিল তীব্র অনিশ্চয়তা।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে হ্যারি কেনের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। তবে ২৪ মিনিটে খভিচা কভারাতসখেলিয়ার গোলে সমতা ফেরায় পিএসজি। ৩৩ মিনিটে জোয়াও নেভেস গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাইকেল ওলিস বায়ার্নের হয়ে সমতা ফেরালেও অতিরিক্ত সময়ে উসমান দেম্বেলের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও নাটকীয় রূপ নেয়। ৫৬ মিনিটে কভারাতসখেলিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান। পরে দায়ো উপামেকানো বায়ার্নের হয়ে ব্যবধান কমালেও ৬৮ মিনিটে লুইস ডিয়াজ গোল করে আবারও পিএসজিকে স্বস্তি এনে দেন। শেষ দিকে বায়ার্ন আরও একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ৫-৪ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এক ম্যাচে ৯ গোলের ঘটনা বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখবে। তবে এক গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয় লেগে নামতে হচ্ছে পিএসজিকে, যেখানে বায়ার্নের মাঠে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।

কিশোরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, তবু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, তবু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জেলায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।

ধান কর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে। এ কাজে ৫৮০ থেকে ৬০০টি হারভেস্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটছেন শ্রমিকরা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৫০ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ১১ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ কাজে ৫৬৯টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ২৬ হাজার ৮৮৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। হাওরাঞ্চলের কৃষক কনক রানী দাস বলেন, “আমি ১৫ একর জমিতে ধান চাষ করেছি। সার ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম। সরকার নির্ধারিত মূল্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হলে আমরা কিছুটা লাভবান হতে পারতাম।”

কৃষক হরবজন দাস জানান, বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে প্রতি একরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আরেক কৃষক বলেন, “৬৭৫ টাকা দরে ২০০ মণ ধান বিক্রি করেছি। উৎপাদন খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। সরকার ১,৪৪০ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও সাধারণ কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।”

কৃষকদের দাবি, সরকার ঘোষিত মূল্য যেন প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।