সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

ঝিনাইদহ-৪ এ ধানের শীষে রাশেদ খানের নাম আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঝিনাইদহ-৪ এ ধানের শীষে রাশেদ খানের নাম আলোচনায়

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এমন গুঞ্জন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও রাশেদ খান শুরুতে ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন, তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঝিনাইদহ-৪ আসনে তার পক্ষে নির্বাচনী সভা করবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি ওই আসনে প্রার্থী হতে সম্মত হন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাশেদ খান নিজেই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলে জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি। এর আগে ঝিনাইদহ-২ আসনে অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রনিকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

তবে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানের নাম ছড়িয়ে পড়ার পর কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যদিও দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া সাময়িক।

দেখা যায়, নতুন করে রাশেদ খানের নাম আলোচনায় আসায় কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, বিগত দিনে কালীগঞ্জে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে এই দুই নেতা হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত। তাদের পাশ কাটিয়ে রাশেদ খানকে প্রার্থী করায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে দাবি করছেন অনেকে। সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এর প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেও পড়তে পারে।

কালীগঞ্জের একাধিক তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতের সঙ্গে। বর্তমান নির্বাচনী হালচালও সে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, এই আসনে দলের ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের প্রার্থী করা হলে বিএনপির ভোটের পাল্লা আরও ভারি হতো। তবে রাশেদ খান প্রার্থী হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি যদি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে নির্বাচনী সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, সেক্ষেত্রে রাশেদ খান বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারেন।

কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটার শাহ আলম বলেন, “কালীগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি বলতে হামিদ ভাই ও ফিরোজ ভাইকেই আমরা চিনি। তাদের যেকোনো একজনকে প্রার্থী হিসেবে পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।”

ঝিনাইদহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিএনপির সঙ্গে আমাদের জোট রয়েছে। সে কারণেই বিএনপি ঝিনাইদহ-৪ আসন রাশেদ খানের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

মনোনয়নের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, “মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ উপস্থিত ছিলেন। ওই আলোচনায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে প্রার্থী করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, “ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানই লড়বেন। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধা। তিনি যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করেন, তাহলে তিনি আমাদেরই প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে বিএনপির সব নেতাকর্মী তার পক্ষেই কাজ করবেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবো।”

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।