গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে আহ্বান জানাতে পারবেন না সরকারি কর্মচারীরা: ইসি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার পক্ষে জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না।
আজ বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া এক চিঠিতে ইসি আরও জানায়, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও প্রচারে অংশ নিচ্ছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রচারের সুযোগ আছে কি না—এ প্রশ্ন নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা চলছিল।
প্রসঙ্গত, গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী যেসব কার্য অপরাধ বা আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
অন্যদিকে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।









