জরিপে বিএনপি জোটকে ৫২ শতাংশ, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৭ শতাংশ ভোটার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটার বিএনপি জোটকে ভোট দিতে পারেন বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিতে পারেন ৩১ শতাংশ ভোটার। একই সঙ্গে, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী।
বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড–৩’ শীর্ষক এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। তিনি জানান, ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই প্যানেল জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে মোট ৫ হাজার ১৪৭ জনের সফল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। গণভোট প্রসঙ্গে প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিলেও ২২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত জানাতে পারেননি।
জরিপ অনুযায়ী, ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন—সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে, যা আগের রাউন্ডের তুলনায় বেশি। পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে। এছাড়া, ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন।
আগামীকাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নিজ নিজ এলাকায় কোন দলের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন—এমন প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা অনিশ্চয়তার কথা জানান। আগের রাউন্ডের তুলনায় বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
জরিপে দেখা যায়, ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ইতোমধ্যে কোন দলকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় বেশি। তবে নারী উত্তরদাতাদের ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন। ভোট পছন্দের দিক থেকে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাবনা দেখছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। অপরদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন—জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন—এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এ ছাড়া, ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন—এই তিনজনের কেউই প্রধানমন্ত্রী হবেন না। আর ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, এই মুহূর্তে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা বলা সম্ভব নয়।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ভোটব্যাংকে এখনো অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণার ধরন অনুযায়ী দলগুলোর মধ্যকার ব্যবধান কমে আসতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিমা খাতুন, ব্রেন-এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।










