শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল: ভারতের সামনে ইতিহাস, চ্যালেঞ্জে নিউজিল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল: ভারতের সামনে ইতিহাস, চ্যালেঞ্জে নিউজিল্যান্ড

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ রবিবার আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তিন বছর আগে এই মাঠেই আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের ক্ষত ভুলে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি এখন রোহিত শর্মাদের সামনে।

আজ জিততে পারলে প্রথম দল হিসেবে তিনটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি টানা দুই আসরে শিরোপা ধরে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়বে আয়োজক ভারত।

সুপার এইট পর্বে এই মাঠেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ভারতের। সেই স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এবার বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এমনকি ফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের টিম হোটেলও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মাঠের লড়াইয়ে মূল নজর থাকবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত দ্বৈরথে, যা নির্ধারণ করে দিতে পারে শিরোপার ভাগ্য।

নিউজিল্যান্ডের বিধ্বংসী ওপেনার ফিন অ্যালেনকে থামানোর বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে ভারতের প্রধান পেসার যশপ্রীত বুমরার কাঁধে। সেমিফাইনালে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করা অ্যালেন পাওয়ারপ্লেতে বোলারদের ওপর চড়াও হতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে বুমরার বিষাক্ত ইয়র্কার ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং কিউই ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভারতের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ সঞ্জু স্যামসন বর্তমানে দারুণ ফর্মে থাকলেও তার সামনে বড় বাধা হতে পারেন পেসার ম্যাট হেনরি। টুর্নামেন্টের শুরুতে অনিয়মিত থাকলেও শেষ দুই ম্যাচে ৯৭ ও ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন স্যামসন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের আগের সিরিজে হেনরি দুবার স্যামসনকে আউট করেছিলেন, যা ভারতীয় শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

মাঝের ওভারগুলোতে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের লড়াইটি হতে পারে কৌশলগত। বাঁহাতি স্পিনের বিপক্ষে সূর্যকুমারের কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে এবং স্যান্টনার এর আগে তিনবার তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। এই আসরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে মরিয়া সূর্যকুমারের ব্যাটিং আজ ভারতের বড় সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক টিম সাইফার্টকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ওপর। সাত ইনিংসে তিনটি ফিফটি করা সাইফার্ট ১৬১ দশমিক ১৭ স্ট্রাইক রেটে রান তুলে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে রেখেছেন। বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত হার্দিকের স্লোয়ার ও শর্ট–পিচ বল সাইফার্টের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং রুখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

‘বাঘা’ শরীফের হ্যাটট্রিক জয়, জব্বার বলীখেলায় টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
‘বাঘা’ শরীফের হ্যাটট্রিক জয়, জব্বার বলীখেলায় টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন

কুমিল্লার মো. শরীফ ওরফে ‘বাঘা’ শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলায় হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি একই এলাকার রাশেদকে পরাজিত করে এ শিরোপা জেতেন।

ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই বলীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। প্রায় ২৪ মিনিটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেননি। তবে শেষ পর্যন্ত রাশেদকে পরাজিত করে ‘বাঘা’ শরীফ আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেন।

এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই দুই বলী ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুইবারই বিজয়ী হন শরীফ, আর রাশেদ রানারআপ হন। এবারও সেই ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে লালদীঘি মাঠে এবারের বলীখেলা শুরু হয়। মোট ১১৭ জন বিভিন্ন বয়সের বলী এতে অংশ নেন। উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন।

লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ঢোলের তালে তালে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রতিবছর বাংলা ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত এই বলীখেলাকে ঘিরে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে লালদীঘির আশপাশে। এবারের ১১৭তম আয়োজন ঘিরেও বসে রঙিন মেলা, যেখানে রঙিন খেলনা, মাটির হাঁড়ি, বাঁশ-বেতের সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজানো হয়।

মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। মাটির তৈরি ঘর সাজানোর সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের গৃহস্থালি পণ্য, খেলনা, মুড়ি-মুড়কি, গাছের চারা ও ফুলঝাড়ুসহ নানা পণ্যের বিকিকিনি চলে।

মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, এটি শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি জীবন্ত মিলনমেলা।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, দেশীয় ও টেকসই পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, যা এই মেলায় ভালোভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে আয়োজকরা জানান, জব্বার বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি রয়েছে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি।

তবে এবার মেলার সময়সূচিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী চেতনায় যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

কুলিয়ারচরে ইউএনও’র মানবিক উদ্যোগ- গভীর রাতেও খোলা ফার্মেসি

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ইউএনও’র মানবিক উদ্যোগ- গভীর রাতেও খোলা ফার্মেসি

সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ‘নাইট রোস্টার’ পদ্ধতিতে ফার্মেসি খোলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকারের এ উদ্যোগের ফলে এখন থেকে গভীর রাতেও জরুরি ওষুধ পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউএনও’র কার্যালয়ে কুলিয়ারচর বাজারের ফার্মেসি মালিকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ইয়াসিন খন্দকার।

সভায় জানানো হয়, এতদিন গভীর রাতে হঠাৎ কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা জরুরি ওষুধের প্রয়োজন হলে বাজারের সব ফার্মেসি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এই সমস্যা নিরসনে প্রতিদিন রাতে পর্যায়ক্রমে (রোস্টার ভিত্তিতে) অন্তত একটি ফার্মেসি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায়- (১) প্রতিদিন নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী একটি ফার্মেসি সারারাত খোলা থাকবে। (২) খোলা থাকা ফার্মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদারকি করা হবে। (৩) কোন দিন কোন ফার্মেসি খোলা থাকবে, তার তালিকা বাজারের দৃশ্যমান স্থানে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

ইউএনও ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “সেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। গভীর রাতে ওষুধের অভাবে যেন কাউকে কষ্ট পেতে না হয়, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই কুলিয়ারচরকে একটি সেবামূলক ও আদর্শ উপজেলায় রূপ দিতে।”

তিনি আরও জানান, রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং অনেক মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা করা সহজ হবে।

রাজধানীর হকার পুনর্বাসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
রাজধানীর হকার পুনর্বাসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য বিকল্প স্থান নিশ্চিত করবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।

এছাড়া বৈঠকে স্কুল ও কলেজের ক্লাস শুরুর ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এবং ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।