শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

অষ্টগ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপি ফজলুর রহমানের মতবিনিময় সভা

আলী রহমান খান প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অষ্টগ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপি ফজলুর রহমানের মতবিনিময় সভা

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফায়াজ হাসান বাবু, সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফ আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফি, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, নার্সিং সুপারভাইজার শামিনা রানী দাস, স্বাস্থ্য সহকারী জারহান মিয়া, সিএইচসিপি আইয়ুব হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা হাসপাতালের চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে হাওরাঞ্চলে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

মতবিনিময় সভা শেষে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে সভাপতি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

৩১ অননুমোদিত অ্যাপে তথ্য দিতে মানা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
৩১ অননুমোদিত অ্যাপে তথ্য দিতে মানা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরবর্তী সময়ে ঋণের টাকা আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এসব অ্যাপ ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের তালিকায় রয়েছে-

সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে সংস্থাটির কাছে অভিযোগ করা যাবে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে ঋণ পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা ও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

বিএফআইইউর সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং আর্থিক হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা।

নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর হাওরপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর হাওরপাড়

সংগ্রহীত ছবি

হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। চারদিকে থইথই পানি। পানির বুক চিরে ছুটে চলছে একের পর এক নৌকা। একসঙ্গে বৈঠা চালাচ্ছেন মাঝিরা। হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শকদের করতালি, হর্ষধ্বনি ও উচ্ছ্বাসে মুখর চারপাশ। নৌকা বাইচকে ঘিরে নিকলী হাওরে ফিরে আসে গ্রাম বাংলার চিরচেনা উৎসবের আবহ।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার আসানপুর-কাঠালকান্দি এলাকাবাসীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নিকলী হাওরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। দুপুরের পর হাওরের চারপাশে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়।

নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় নৌকা নিয়ে মানুষ ছুটে আসেন প্রতিযোগিতা দেখতে। কেউ নৌকায় বসে হাওরে ভেসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন, আবার কেউ হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার ছুটে চলার দৃশ্য উপভোগ করেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় আনন্দমুখর মিলনমেলায়।

প্রতিযোগিতা শুরুর সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝিরা একযোগে বৈঠা চালাতে শুরু করেন। মুহূর্তেই নৌকাগুলো ছুটে চলে পানির ওপর দিয়ে। একে অপরকে পেছনে ফেলে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বৈঠার ছন্দ যত বাড়তে থাকে, দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ততই বাড়তে থাকে।

এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়—২০ মাঝির নৌকা ও আনলিমিটেড মাঝির নৌকা। দুই ক্যাটাগরিতেই বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ মাঝির ক্যাটাগরিতে মাতাব মাঝির নৌকা এবং আনলিমিটেড ক্যাটাগরিতে সেলিম মাঝির নৌকা বিজয়ী হয়।

প্রতিযোগী মাঝি আমিরুল ইসলাম বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের কাছে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। বৈঠা হাতে নৌকা নিয়ে পানিতে নামার পর জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি আলাদা আনন্দ কাজ করে।”

আরেক প্রতিযোগী হিমেল মিয়া বলেন, “বাইচের সময় পরিবেশটা একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। একসঙ্গে অনেক মাঝি বৈঠা চালালে নৌকা দ্রুত ছুটে চলে। দর্শকদের চিৎকার ও করতালিতে আমাদের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।”

বিজয়ী দলের সদস্য রুমান বলেন, “জয়ের জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সবাই সমন্বয় করে বৈঠা চালিয়েছি। বিজয়ী হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, এত মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে এসেছে।”

নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, “আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে গ্রাম বাংলার অনেক লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরে। নতুন প্রজন্মও আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে।”

দর্শনার্থী রাকিব হোসেন বলেন, “অনেক দিন পর নৌকা বাইচ দেখে খুব ভালো লাগছে। হাওরের পানিতে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয়দের কাছে নৌকা বাইচ শুধু খেলা বা বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বর্ষায় হাওর পানিতে ভরে উঠলে নৌকা হয়ে ওঠে মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই নৌকাকে ঘিরেই একসময় গ্রাম বাংলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠত নৌকা বাইচ।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখাই ছিল আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।”

প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়ার সময়ও ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। দর্শকরাও করতালি দিয়ে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

হাওরের জলরাশি, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে নিকলী হাওরে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির প্রাণবন্ত এক রূপই যেন নতুন করে সামনে আসে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৮৯, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৮৯, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১

নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপাল নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দেশের আটটি জেলা থেকে ৪৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চিতওয়ান জেলায় ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্ব) জেলায় ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিম) জেলায় ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির পুলিশের হিসাবে, এখনো ২ হাজার ৩৮১ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের বেশিরভাগই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক।

এ ছাড়া বিদেশে বসবাসকারী বা বিদেশ থেকে ভ্রমণে আসা ১২৭ জন নেপালি এবং দেশের অভ্যন্তরের আরও ১ হাজার ৭৩৭ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নেপাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পুলিশ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক থেকে বাধা অপসারণ এবং নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি থাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।