বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা

সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকো, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক এবং সাধারণ সম্পাদক মানসুরুল হক রবিন

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম সিদ্দিক চঞ্চল, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত এক যোদ্ধার মা ফাতেমা তুছ জহুরা, হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আছমা বেগম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান চন্দন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধি মোঃ আল আমিন ভূইয়া এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি হুমায়ুন কবির কিবরিয়াসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। এবারের আয়োজনের মধ্যে থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামীণ মেলা। এসব কর্মসূচি সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হোসেনপুরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে তিনি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড: বিসিবি অ্যাড-হক কমিটি বিতর্কে

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড: বিসিবি অ্যাড-হক কমিটি বিতর্কে

বিসিবির অ্যাড-হক কমিটিতে রাজনৈতিক পরিবারের চার সদস্যের উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। নতুন কমিটিতে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশে এই ধরনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত।

বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে কারচুপিসহ নানা অনিয়মের দায়ে আগের বোর্ড ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নতুন করে ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। গত ৭ এপ্রিল, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এনএসসি এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

নতুন কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতহার আলি খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং রাশনা ইমাম।

নবগঠিত অ্যাড-হক কমিটির সদস্যদের মধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য রয়েছেন। আইনজীবী রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। এছাড়া, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে। বিএনপির সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ এবং বিএনপির সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরুও কমিটিতে রয়েছেন।

এই চার সদস্যকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। যদিও বছরের পর বছর ধরে উপমহাদেশে এই ধরনের প্রবণতা বিরাজমান। আগের বোর্ডেও তখনকার সরকারের পছন্দের ব্যক্তিরা বিসিবির পরিচালক হয়েছিলেন, যা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সংসদে এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জনপ্রিয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। অধিবেশনে তিনি বলেন, “বিসিবিকে এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বলা যায় না। এটি হয়ে গেছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’। যেভাবে দখল করা হয়েছে, তাতে বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ যেন পরিবারবিহীন নয়।”

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে এসেছে তা মাননীয় স্পিকারকে জানাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সরকারি ক্ষমতার প্রয়োগ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। রেজিস্টার্ড ক্লাবগুলোর কাউন্সিলরদেরও প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং হাইকোর্টে যে রিট দায়ের হয়েছিল, সেটি এখনও স্থগিত। পরে বর্তমান সরকার মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর (আমিনুল হক) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যথেষ্ট অনিয়মের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আগের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে দেশের কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আমরা কোনো ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ করি নি। তিন মাসের মধ্যে এই কমিটি বিধি মোতাবেক নির্বাচন সম্পন্ন করবে।”

অ্যাড-হক কমিটির মেয়াদ তিন মাস, যা আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এর পর তারা নির্বাচিত বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার চার আসামিকে বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি, মাদক রাখা এবং ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয় জনতা আসলাম খান (৪০) নামে একজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পালিয়াকান্দা গ্রামের তৌহিদ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০), চাঁদপুর সদর উপজেলার বাকরপুর এলাকার চান খানের ছেলে আসলাম খান (৪০), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার গজারিয়া এলাকার খুরশেদ আলমের ছেলে রাকিব মিয়া (২০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কালিকাপুর এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (১৯)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের ছাদে উঠে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অপরাধে সালাউদ্দিন ও রাকিবকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ক্যাবল চুরির অপরাধে আসলাম খানকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন মিয়ার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, রেললাইনের পাশ থেকে ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয়দের সহায়তায় আসলাম খানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অন্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিল পাস

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিলটি পাসের আগে এ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিলের কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিলে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে, যা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিস্বার্থে সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে একই কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমের যথাযথ মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তিনি মত দেন।

এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আপত্তি উত্থাপিত হলেও তা নাকচ করে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস করা হয়।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ আইনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় নির্ধারণের একটি আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।