সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার চার আসামিকে বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি, মাদক রাখা এবং ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয় জনতা আসলাম খান (৪০) নামে একজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পালিয়াকান্দা গ্রামের তৌহিদ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০), চাঁদপুর সদর উপজেলার বাকরপুর এলাকার চান খানের ছেলে আসলাম খান (৪০), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার গজারিয়া এলাকার খুরশেদ আলমের ছেলে রাকিব মিয়া (২০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কালিকাপুর এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (১৯)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের ছাদে উঠে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অপরাধে সালাউদ্দিন ও রাকিবকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ক্যাবল চুরির অপরাধে আসলাম খানকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন মিয়ার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, রেললাইনের পাশ থেকে ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয়দের সহায়তায় আসলাম খানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অন্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় টপি রানী পাল (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নগরকুল এলাকায় নিজ বসতঘরের একটি কক্ষে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত টপি রানী পাল একই এলাকার তাপস চন্দ্র পালের স্ত্রী এবং হিমাংশু পালের মেয়ে।

ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির সুবাদে তিনি শরীয়তপুরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পরবর্তীতে স্বামীসহ নিহতের বাবা-মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ পেয়ে তাড়াইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ করায় পাপন (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদর বাজারের পাকুন্দিয়া–মির্জাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাপন পৌরসদরের লক্ষীয়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পাপনের বন্ধু রাজনের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পারভেজ ও মাসুম মিয়ার ছেলে ইমরানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পারভেজ রাজনকে থাপ্পর মারেন। এর প্রতিবাদ করলে পাপনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে পারভেজ ও ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পাপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে পারভেজ তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা পাপনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শাহান শাহ বলেন, পারভেজ ও ইমরানসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্বশেষ তারা পাপনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারভেজ ও ইমরান নামে দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ফার্নিচার মিস্ত্রি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (৪২) মারা গেছেন। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফখরুল ইসলাম উপজেলার গুজদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ কাজল আক্তার ও রোমা আক্তার নামের দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের রহিম, আশিক, ফজলু ও হোসেনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একখণ্ড জমি নিয়ে ফখরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৬ মার্চ সকালে ফখরুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।