বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু কাল: শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু কাল: শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল বুধবার(১৫ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা কমাতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

১. প্রয়োজনীয় উপকরণ গুছিয়ে রাখা:
আজ বিকেলের মধ্যেই প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড), কলম, পেনসিল ও জ্যামিতি বক্স একটি স্বচ্ছ ফাইলে গুছিয়ে রাখতে হবে, যাতে পরীক্ষার দিন কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না হয়।

২. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম:
শেষ রাতে অতিরিক্ত পড়াশোনা না করে সময়মতো ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং পরীক্ষার হলে সঠিক উত্তর মনে রাখতে সহায়তা করে।

৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে সময়মতো উপস্থিতি:
যানজট বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষার অন্তত ৩০–৪০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে।

৪. ওএমআর (OMR) শিট পূরণে সতর্কতা:
রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বৃত্ত ভরাট করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো ভুল হলে না ঘাবড়ে দায়িত্বরত শিক্ষককে জানাতে হবে।

৫. প্রশ্নপত্র মনোযোগ দিয়ে পড়া:
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর অন্তত ৫ মিনিট সময় নিয়ে পুরো প্রশ্নপত্র ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে এবং কোন প্রশ্ন আগে উত্তর দেওয়া হবে তা পরিকল্পনা করতে হবে।

৬. সহজ প্রশ্ন আগে উত্তর দেওয়া:
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সবচেয়ে ভালো জানা আছে, সেগুলো আগে লিখতে হবে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

৭. সময় ব্যবস্থাপনা:
কোনো একটি প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা যাবে না। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে।

৮. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা:
উত্তরপত্রে অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি ও ঘষামাজা এড়িয়ে চলতে হবে। হাতের লেখা স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন হলে ভালো মূল্যায়নের সম্ভাবনা বাড়ে।

৯. কোনো প্রশ্ন ফাঁকা না রাখা:
সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কোনো প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর জানা না থাকলেও প্রাসঙ্গিকভাবে কিছু লিখে আসা উচিত।

১০. শেষ মুহূর্তে রিভিশন:
পরীক্ষা শেষের আগে অন্তত ১০ মিনিট সময় রেখে পুরো উত্তরপত্র একবার মিলিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে রোল নম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করতে হবে।

‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

‘অধিক সারে অধিক ফসল’—এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতি হয়, মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি জমিতে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘প্রোগ্রাম অন রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’-এর আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ১৭টি পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ৩৪ জন সদস্য, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসিবুল হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জলি বদন তৈয়বা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা মিয়া, সাংবাদিক ফজলুর রহমান এবং কৃষি পরিবার কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সেমিনারে বক্তারা জানান, ভৈরব উপজেলায় বর্তমানে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ২৭টি টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমে ২৫ জন সদস্য রয়েছেন, যারা ১০টি সেশনের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বীজ প্রত্যয়ন ব্যবস্থা জোরদার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা জানান, বর্তমানে কৃষিজমিতে জৈব সারের পরিমাণ হওয়া উচিত কমপক্ষে ৫ শতাংশ, অথচ বাস্তবে তা মাত্র ১ শতাংশ। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার ফসল ও মাটির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। তাই সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ভৈরবের ইউনিয়নগুলো থেকে কর্মঠ, উদ্যোগী এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে আগ্রহী কৃষকদের বাছাই করে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

সেমিনারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিল্ড স্কুলের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নারী কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারেন।

হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আলোকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেচেড়া (আটকাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল ও বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আবেদন করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শহীদ মিয়া, সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আরও বলা হয়, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখল নেওয়া এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হোসেনপুর থানা থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, দখল বা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ ওই নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতিরোধে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নান্দানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেনকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে পুমদী ইউনিয়নসহ হোসেনপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, মোশারফ হোসেন এর আগে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে ওসি (ডিবি) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

পুমদী ইউনিয়নবাসী আশা প্রকাশ করেন, তিনি নতুন কর্মস্থল সাটুরিয়া থানায়ও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এ সময় তার সার্বিক সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।