র্যাব সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার একটি হত্যা মামলার ৪ আসামিকে বগুড়া জেলার শেরপুর থানার খানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. সাব্বির হোসেন (২২), মজিবুর রহমান (৫৫), মো. সজিব মিয়া (২৬) ও শাহ আলম (৫২)। রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে র্যাব-১২ সিপিএসসি, বগুড়ার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি জাহেদ (৩৮)কে একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে সদর থানার নিয়ামতপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, ইটনা উপজেলার মধ্যগ্রামে নিহত আইয়ুব আলী (৬৮)-এর বোনের জমি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইয়ুব আলী একটি মুরগির খামারে মুরগি কিনতে গেলে আসামিরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কামরুল হাসান (৪৩) বাদী হয়ে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৮, তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫; ধারাঃ ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৩/৩২৫/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার তেরহাসিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জাহেদসহ অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইকরামুল হাসান অনিক (১৮)-এর বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
হামলায় অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিকের বাবা আবু কালাম (৪৬)সহ আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৩২, তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৬; ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।
র্যাব জানায়, উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।