সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কলার ধরে আ. লীগ নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বিএনপি নেতা- ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কলার ধরে আ. লীগ নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বিএনপি নেতা- ভিডিও ভাইরাল

কিশোরগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বিএনপির এক নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকা থেকে মাহতাব উদ্দিনকে আটক করা হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম (আশফাক)-এর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাহতাব উদ্দিন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি।

বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম জানান, মাহতাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে টিনপট্টি এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নদীর পাড়ের সরকারি গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে মাহতাব উদ্দিন মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন এবং পরিস্থিতি দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন।

অন্যদিকে মাহতাব উদ্দিনের চাচাতো ভাই টিটু মিয়া বলেন, “তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। জনসমক্ষে এভাবে কাউকে অপদস্থ করা ঠিক হয়নি।”

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “স্থানীয়রা মাহতাব উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে থানায় আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জমি নিয়ে বিরোধে কিশোরগঞ্জে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জমি নিয়ে বিরোধে কিশোরগঞ্জে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

সাশ্রয় নাকি ব্যয়ের নতুন ফাঁদ?

সংসদ সদস্যদের গাড়ি সুবিধা বাতিল, আবার উপজেলায় অফিসসহ নানা সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের গাড়ি সুবিধা বাতিল, আবার উপজেলায় অফিসসহ নানা সুবিধা

সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে বিল পাস হওয়ায় সরকার ও বিরোধী দলকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। তবে সচেতন মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয়ের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা যেন নতুন ব্যয়ের চাপে ক্ষুণ্ন না হয়- সেই বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এমপিদের জন্য বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রীয় অর্থে নতুন গাড়ি সরবরাহ করা হলে উল্টো ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, নতুন গাড়ি কেনা, চালক নিয়োগ, জ্বালানি ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গাড়ি প্রতিস্থাপনের মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে। এতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিলের ফলে যে আর্থিক সাশ্রয় হওয়ার কথা, তা বাস্তবে কমে যেতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে হলে এ বিষয়ে সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। অনেকের মতে, এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত বা রাষ্ট্রীয় গাড়ি সুবিধা—উভয় ক্ষেত্রেই পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন, যাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানো যায়।

এদিকে, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় আইন প্রণয়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পৃথকভাবে নির্ধারিত। সংসদ সদস্যরা জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন, আর স্থানীয় উন্নয়ন পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এই ভারসাম্যই কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

তবে উপজেলা পর্যায়ে এমপিদের জন্য দাপ্তরিক কাঠামো গড়ে তোলা হলে স্থানীয় প্রশাসনে তাদের প্রভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এতে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা, আইন প্রণয়ন করা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অংশ নেওয়া। সরাসরি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না- এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ কারণে উপজেলা পর্যায়ে এমপিদের জন্য অফিস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে- এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান উদ্যোগকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের স্থানীয় কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং কেন্দ্রীয়করণের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এমপিরা স্থানীয় উন্নয়নে নীতিগত ও তদারকিমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে তা সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে পরিণত হওয়া উচিত নয়।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল এবং উপজেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপনের মতো সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের আগে এর আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয়, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই নীতিনির্ধারণ করা উচিত।

একনেক সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
একনেক সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত ৪টি প্রকল্প।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. নগর জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প।
২. কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।
৩. পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন)।
৪. জলবায়ু অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসে সহনশীল অবকাঠামো (নদী) প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।
৫. চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।
৬. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন)।
৭. ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।
৮. ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
৯. পার্বত্য জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)।
১০. বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল জেলামহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।
১১. বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।
১২. রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।
১৩. বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।
১৪. মধুখালী-কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)।

সভায় তিনটি সড়ক প্রকল্পে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ৩৩টি প্রকল্প ইতোমধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন পেয়েছে বলে সভায় জানানো হয় এবং সে বিষয়ে একনেককে অবহিত করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ জোরদার, রেলপথ উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে গতি আসবে।