শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে হাম- মৃত্যু ছাড়াল ২৫০
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দেড় মাসে (১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামে ও হামের উপসর্গে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ২০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একই সময়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪৬০ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ শিশু। এ সময় সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৭ হাজার ৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় (২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামে ও এর উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮৭ শিশু এবং আরও ১ হাজার ৫৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিভাগে মোট ১২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৭১০ শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু, যা এ বয়সি শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃত শিশুদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকা পাওয়া (এক ডোজ) ছিল। ফলে টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতিকে এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশে চলমান হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে World Health Organization। সংস্থাটি বাংলাদেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ইতোমধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে টিকার আওতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।













