পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই এবং সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণকৃত লবণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(২৩ মে) সকাল ১১টায় কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মালিজ। এতে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, চামড়া ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. শাহীন আহমেদ, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু সরকার, মুমুরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাদিউল ইসলাম, কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, চামড়া ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা মো. জহির উদ্দিন মেম্বার, কটিয়াদী মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়া, সাংবাদিক মাসুম পাঠান, মিয়া মোহাম্মদ সিদ্দিকসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ। প্রতি বছর অসচেতনতা ও সঠিক সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এতে যেমন ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি রাষ্ট্রও হারায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় খাত। তাই চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সচেতনতা ও দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানোর কৌশল এবং চামড়া যাতে কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে দ্রুত লবণ প্রয়োগের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণে জানানো হয়, সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণকৃত লবণ নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহার করলে চামড়া দীর্ঘসময় ভালো রাখা সম্ভব হবে। চামড়ার ভেতরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ছিটিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। বিশেষ করে কোরবানির পর যত দ্রুত সম্ভব চামড়ায় লবণ প্রয়োগ করা গেলে পচন রোধ করা সহজ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মালিজ বলেন, “কোরবানির পশুর চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে এই সম্পদের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চামড়া সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোরবানির সময় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ এবং চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং কোরবানির সময় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।