রাত পোহালেই শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কিশোরগঞ্জে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ
রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দেশব্যাপী একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত এবং ৯ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ অংশের জন্য সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে সারাদেশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং মোবাইলে সেট কোড পাওয়ার পর প্রশ্নপত্রের সিল খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন নিষিদ্ধ থাকছে। তবে নন-প্রোগ্রামেবল হাতঘড়ি ও অনুমোদিত সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত জেলার সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সব ফটোকপি মেশিনের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পরীক্ষা গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, নকল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মতো যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।










