সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কটিয়াদীতে বাম্পার ফলন, মণপ্রতি ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাট

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে বাম্পার ফলন, মণপ্রতি ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাট

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পাটের আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ এলাকায় পাটের ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। এর সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

কৃষকদের আশা, বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে পাট চাষে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবেন। কৃষি বিভাগও বলছে, ধান চাষের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেক নতুন কৃষক এবার পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো মানের পাট মণপ্রতি গড়ে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও উৎকৃষ্ট মানের তোষা পাটের দাম ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে তুলনামূলক নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। কৃষকদের মতে, পাট কিছুদিন সংরক্ষণ করে বিক্রি করলে দাম আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কটিয়াদী উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় পতিত পড়ে থাকা অনেক জমিতেও এবার পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ধান চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতা এবং পাটের বর্তমান লাভজনক বাজার কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে।

পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামে রাস্তার পাশে সারি সারি করে শুকানো হচ্ছে নতুন পাট। মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায়ও একই চিত্র। কোথাও কৃষকেরা জমি থেকে পাট কাটছেন, কোথাও পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। রাস্তার ধারে শুকানো হচ্ছে পাট ও পাটকাঠি। বিভিন্ন জলাশয়ের পাড়ে শ্রমিকেরা আঁশ ছাড়িয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন। ইতোমধ্যে কটিয়াদী পুরাতন বাজারের ঐতিহ্যবাহী পাট মোকামেও নতুন পাটের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া বলেন, “এ বছর দুই একর জমিতে পাট চাষ করেছি। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার জমিতে প্রায় ৪৫ মণ পাট হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।”

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম বলেন, “বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে অনেক ব্যবসায়ী ভালো পাটকেও নিম্নমানের বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর ধরে থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।”

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, “ভালো মানের পাট ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। এখনো পুরোপুরি পাট বাজারে ওঠেনি। বড় ব্যবসায়ীরা সময়মতো নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসা আরও গতিশীল হবে। বেশি দিন গুদামে পাট জমে থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হয়।”

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা বলেন, “বর্তমানে তোষা পাটের দাম প্রকারভেদে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকা মণ। মেস্তা পাটের বাজারও ভালো। মিল মালিকরা দ্রুত অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের জন্য পাট কেনাবেচা সহজ হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে।”

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। তবে অনেক কৃষক অপর্যাপ্ত ও অপরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেন, এতে আঁশের মান কমে যায়। পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দিলে আঁশের গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

হোসেনপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ দাওয়াতী গণসংযোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ দাওয়াতী গণসংযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৩০ দিনব্যাপী ‘দাওয়াতী দশক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল হকের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক জৈনউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডিএম মুহিবুল্লাহ, হোসেনপুর পৌরসভা সভাপতি রহমত আলী মাস্টার, যুব বিভাগের সভাপতি মো. আরফান হোসেন বাবরসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জৈনউদ্দিন বলেন, একটি সৎ, চরিত্রবান ও মানবিক সমাজ গঠনে দাওয়াতী কাজের বিকল্প নেই। সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে সত্য ও সুন্দর পথে আসার আহ্বান জানানোর লক্ষ্যেই এ দাওয়াতী দশকের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশ শেষে হোসেনপুর উপজেলার কুড়িঘাট মোড় থেকে হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এ সময় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ইসলামী জীবনদর্শনের পরিচিতিমূলক লিফলেট ও বই বিতরণ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ দাওয়াতী দশকের মাধ্যমে হোসেনপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগঠনের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও গণসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন রেনু মিয়া নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রেনু মিয়া ওই এলাকার ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় করা একটি মামলার আসামি রেনু মিয়া। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। তবে এ সময় কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় রেনু মিয়া কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউপি নির্বাচন হবে আগামী ১২ নভেম্বর।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় তিনটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, এ দুই জেলায় উপজেলার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যেসব জেলায় ১০টি বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলার দুটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হবে। এসব মিলিয়ে প্রথম ধাপে মোট ৮০টি উপজেলা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আদালতের রায়ের কারণে দুটি উপজেলায় নির্বাচন করতে হবে। আর বাকি উপজেলাগুলো বেশি সংখ্যক উপজেলা থাকা জেলাগুলোতে আনুপাতিক হারে সমন্বয় করে প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপকে অপেক্ষাকৃত হালকা রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দ্বিতীয় ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে।