ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতার নাম
তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথসভা ও মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও পথসভা করেছেন উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ বালু উত্তোলন, ফসলি জমি ও জলাশয় ভরাট এবং সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে এসব বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে নিকলী গার্লস স্কুল মোড়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পথসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া বলেন, সম্প্রতি নিকলী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী এবং প্রতিটি ইউনিয়নে সুপারভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, নিয়োগের তালিকায় উপজেলা প্রশাসনের স্থানীয় কর্মচারীদের পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে বলে তারা দেখতে পেয়েছেন। এসব নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানান তিনি।
মানিক মিয়া আরও বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ফসলি জমি ভরাট, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পুরোনো পুকুর ও জলাশয় ভরাট এবং সরকারি রাস্তার পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি হারুন-অল-কাইয়ুম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি হারুন আর রশীদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আলী হোসেনসহ সাত ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হাঁস প্রতীকে জয়ী হন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
নির্বাচনের পর স্থানীয় বিএনপিতে ধানের শীষপন্থী ও ইকবালপন্থী—এমন দুটি বলয় তৈরি হয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বহিষ্কৃত হন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধও রয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় ও সুবিধাবঞ্চিত বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকে ইকবালপন্থীদের উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার রয়েছে। এর ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রশাসনিক সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন বলেও তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা উপজেলা প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তিনি নিকলী উপজেলা প্রশাসনকে ‘মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রশাসন দলীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পুনর্বাসন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বহিষ্কৃত ইকবালপন্থীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে সৈয়দ এহসানুল হুদার এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ৫০ জন তথ্য সংগ্রহকারীকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ যাচাই করে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল করা হবে।
ইউএনও স্বীকার করে আরও বলেন, সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের কর্মকাণ্ডে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এমন কোনো ব্যক্তিকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array