বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

নিকলীতে চর দখল নিয়ে দুই গ্রামের উত্তেজনা

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিকলীতে চর দখল নিয়ে দুই গ্রামের উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ঘোড়াউত্রা নদীতে জেগে ওঠা চর দখলকে কেন্দ্র করে বেয়াতিরচর ও ছাতিরচর—দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ নদীর পাড়ে মুখোমুখি হয়। খবর পেয়ে থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘোড়াউত্রা নদীর পশ্চিম তীরে সৃষ্টি হওয়া নতুন চর বহুদিন ধরে বেয়াতিরচর গ্রামের লোকজন চাষাবাদ করে আসছেন বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, ছাতিরচর গ্রামের লোকজন ‘মসজিদের জন্য জমি’ দাবি তুলে চর দখলে নিতে চাইছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার নদীচরে জেগে ওঠা শত শত একর জমি ভূমিহীন কৃষকদের দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগই প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে। কিছু জমি মুক্তিযোদ্ধাদের বরাদ্দ দেওয়া হলেও অবশিষ্টের ওপর দখল নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

নিকলী থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা ভূমি অফিসারের কার্যালয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পুলিশ, দুই ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

তাড়াইলে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, সেচে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
তাড়াইলে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, সেচে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমিতে চারা রোপণ করছেন তাঁরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষককে সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে আমনের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৫৪০ হেক্টর, উফশী জাতের ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর। এ পর্যন্ত হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।

তবে চলতি মৌসুমে আমন আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভাদ্র মাসে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আমন ধানের চারার বয়স বেশি হয়ে গেলে তা রোপণ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সময়মতো চারা রোপণের জন্য বৃষ্টির পানির অপেক্ষা না করে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন এবং চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে চলছে আমনের চারা রোপণ। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে আমন চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে তাঁদের আশা।

এবার আমন মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকেরা। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না থাকায় অনেকেই গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছেন। কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে।

উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এবার ধানের চারা রোপণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। সেচের পানি দিয়ে ধান লাগাতে হয়েছে। এতে খরচও বাড়বে। এবার ফলন ও দাম ভালো পেলেই আমরা খুশি।’

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় আমন আবাদের অগ্রগতি ভালো। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির ঘাটতির কারণে কৃষকেরা যে সমস্যায় পড়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

‘শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’- বায়তুল মোকাররম খতিব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
‘শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’- বায়তুল মোকাররম খতিব

কোরআন ও হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেছেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও ইসলামী শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। তবে দেশীয় ব্যবস্থাপনার কোনো আইনকে ইসলামী শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত সংবিধানে কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরোধী কোনো ধারা যুক্ত হয়ে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করা উচিত।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু শরিয়াহবিরোধী আইনের প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল মালেক তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আকিদাগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলমান দাবি করে এবং নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামী বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যায়। তবে তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামী আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘প্রতারক, বেইমান ও দাজ্জাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্য তাঁর বক্তব্যের অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হলো; কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে এসব অবমাননাকর বিশেষণকে প্রতিবেদনের নিজস্ব বর্ণনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী রয়েছেন এবং তাঁরা নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত। তবে কাদিয়ানিদের বিশ্বাস ও আকিদা নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মিঠামইনে মৃত্যুর কারণ নিয়ে গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মিঠামইনে মৃত্যুর কারণ নিয়ে গুঞ্জন

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামে মো. মুক্তার মিয়া (—) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যাওয়ার পর বুধবার ভোরে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

নিহত মুক্তার মিয়া গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত কালা মিয়ার ছেলে এবং গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মুক্তার মিয়া তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যান। ভোররাতে স্বজনরা তাঁকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে আনেন।

পরে খবর পেয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মুক্তার মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাটি স্বাভাবিক আত্মহত্যা নাও হতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, তাঁকে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

মিঠামইন থানা পুলিশও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাবেক এই জনপ্রতিনিধির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গোপদীঘি ইউনিয়নে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।