রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ভেকু ও ট্রাক্টর জব্দ; ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভেকু ও ট্রাক্টর জব্দ; ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান
ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি এক্সক্যাভেটর (ভেকু) ও একটি মাটি পরিবহনকারী ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী নতুন সড়ক হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকায়,হোসেনপুরের চর হটর আলগী ও গফরগাঁও উপজেলার চর আলগী মৌজার সীমান্তসংলগ্ন একটি অবৈধ বালুর টালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যৌথ অভিযানে অংশ নেন হোসেনপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসী মাসনাদ, গফরগাঁও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির সালমান রনি, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের সদস্যরা। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর (ভেকু) এবং মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত যানবাহনগুলো পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গফরগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও গত ২৪ শে জানুয়ারি হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চরে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে ড্রেজার পাওয়া না গেলেও ড্রেজিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত অননুমোদিত পাইপ নদীতে স্থাপন করা অবস্থায় উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসী মাসনাদ জানান, পরিবেশ সুরক্ষা ও নদী ভাঙন রোধে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জে এমপি মাজহারুল ইসলামকে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এমপি মাজহারুল ইসলামকে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলামের আগমন উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম আশফাক এবং এডহক কমিটির সদস্য মো. খসরুজ্জামান (জিএস শরীফ)।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। তাঁর আগমন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

কটিয়াদীতে সিসা কারখানা চালুর প্রতিবাদে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে সিসা কারখানা চালুর প্রতিবাদে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর একটি সিসা কারখানা পুনরায় চালুর প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের মধ্যস্থতা এবং জেলা যুবদলের সভাপতি জিএস শরীফ ও কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সিসা কারখানা চালু হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি পুনরায় চালুর যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার কারখানাটি পুনরায় চালু করা হলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সিসা কারখানা কোনোভাবেই চালু করতে দেওয়া হবে না। কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ বন্ধ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

পরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি জিএস শরীফ, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্বাসে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কে জি এন্টারপ্রাইজ সিসা কারখানার পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, এটি একটি যৌথ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে সব আইন ও বিধি মেনেই কারখানাটি চালু করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মো. শাহজাহান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। মেশিন চালিয়ে বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করার পর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে কারখানাটি বন্ধ থাকার পর তারা হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

কারখানাটি পরিবেশ বা সমাজের কোনো ক্ষতি করছে না দাবি করে তিনি বলেন, এটি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সরকারের শিল্পকারখানা রক্ষার নীতির মধ্যে থাকলেও কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে কারখানাটি বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। সংসদ সদস্যকে সরেজমিনে কারখানাটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারখানাটি পরিবেশের ক্ষতি করছে—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তারা কারখানা বন্ধ করে দেবেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্ধ থাকা একটি সিসা কারখানা পুনরায় চালুর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৩৬

দেশে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন। রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, একজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে মারা গেছেন ৯৫৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২৫৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৫৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।