সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ; জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি
কিশোরগঞ্জে এক হিন্দু পরিবারের বসতভিটা দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে জেলা শহরের কালীবাড়ি এলাকার সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোটের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন চন্দ্র সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার নগুয়া এতিমখানা রোড সংলগ্ন এলাকায় নিজ মালিকানাধীন সম্পত্তিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি তার জমি ও বসতভিটার ওপর মালিকানা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নামমাত্র মূল্যে জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, উচ্ছেদের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল, নামজারি (খারিজ), পৌর হোল্ডিং, বিদ্যুৎ সংযোগসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র রিপন চন্দ্র সূত্রধরের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতে দেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জে এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগজনক। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের আড়ালে একটি পরিবারকে হয়রানি ও আতঙ্কের মধ্যে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপই পারে পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিষয়টি আইনানুগভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।













