গোলপুকুরপাড়ে রক্তাক্ত দুই যুবক, একজনের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে দুই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা দুই যুবকের মধ্যে রনি (১৯) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর যুবক আসিফ (২০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে হোসেনপুর উপজেলার আদুমাস্টার বাজার সংলগ্ন গোলপুকুরপাড় এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে হোসেনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রনি ও আহত আসিফের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায়। তবে তারা কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং কী কারণে এ দুর্ঘটনা বা হামলার শিকার হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই যুবকের শরীর ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে রনির মাথা থেঁতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরনে বাদামি রঙের গেঞ্জি ও কালো-বাদামি ডোরাকাটা প্যান্ট ছিল। অপরদিকে আহত আসিফের পরনে ছিল কালো রঙের পোলো শার্ট। তার মাথা ও মুখে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে।
উদ্ধারের পর আহত আসিফকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গোলপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “সকালে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি দুই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একজনের মাথা থেঁতলে গেছে। তারা কারা বা কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে তখন কেউ কিছু বলতে পারেনি।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা হতে পারে। আবার কেউ কেউ পরিকল্পিত হামলা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহত দুইজনকে উদ্ধার করে। নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আহত যুবকের জ্ঞান ফিরলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বলে জানা গেছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আহত যুবকের বক্তব্য পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার রহস্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।










