পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অটোরিকশাচালক, হত্যা মামলা পরিবারের
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে আহত অটোরিকশাচালক রোকন (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার নয় দিন পর মঙ্গলবার(২১ জুলাই) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার(২২ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ সুরাফ।
নিহত রোকন সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভাবুন্দিয়া কালিকাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্ত রাজিব (২১) একই এলাকার সিদ্দিকের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভাবুন্দিয়া কালিকাবাড়ী এলাকায় রাজিবের সঙ্গে রোকনের দেখা হয়। পরিবারের দাবি, রাজিবের কাছে রোকনের কিছু টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজিব তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে রোকনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাজিব টিপ ছুরি দিয়ে রোকনের পেটের নিচের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রোকনের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের অভিযোগ, একটি সামান্য পাওনা টাকার বিরোধের জেরে একজন উপার্জনক্ষম মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মোহাম্মদ সুরাফ বলেন, “আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। শুধু নিজের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাকে প্রাণ দিতে হলো। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, “নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।”








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array