তিতাসে দুই কূপ খননে ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা
দেশের গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।
‘তিতাস গ্যাসফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিজিএফসিএল। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৪৫৪ কোটি টাকা। বাকি ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল থেকে।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রথম বছরের মধ্যে একটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে। দেড় বছরের মধ্যে দুটি কূপই উৎপাদনে আসতে পারে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল কাসেম খান জানান, কূপ দুটি থেকে দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি প্রায় ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যেতে পারে। উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পের আর্থিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১০ বছরে কূপ দুটি থেকে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য বিবেচনায় এ গ্যাসের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।
কূপ খননের কাজে বিদেশি ঠিকাদার এবং দেশি-বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।
জ্বালানিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিমের মতে, নতুন কূপ খনন দেশের গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকেও অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন।













Disqus comments are not configured yet.