রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা অসহায় হত দরিদ্র মানুষের বাড়িতে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন।

শীতের তীব্রতা থেকে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষকে রক্ষা করতে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার জিনারী, সিধলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে শীতার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেড় শতাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই দরিদ্র, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের কথা বিবেচনায় রেখে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিতরণকালে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা শীতের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন,
“সরকারের নির্দেশনায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। প্রকৃত অসহায় মানুষ যেন শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের অসহায় মানুষ শীতে জুবুথুবু অবস্থায় রয়েছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শীতবস্ত্র পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। তারা জানান, শীতের এই সময়ে উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়নের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


আটক আসামিকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বাক্ষরহীন রি-কল দেখাল ভৈরব থানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
আটক আসামিকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বাক্ষরহীন রি-কল দেখাল ভৈরব থানা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক এক আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আরিয়ান খুলুদ নামের ওই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ওসি মাহবুবুর রহমানের দাবি, আসামির পক্ষে আদালতের আদেশের রি-কল থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওসির দাবিকৃত রি-কলে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নাম থাকলেও তাঁর স্বাক্ষর না থাকায় রি-কলটি আসল নাকি নকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরব থানার মামলা নম্বর-৩৯ (৩) ২০২৬ এবং সি.আর. মোকদ্দমা নম্বর-৩৯/২০২৬-এর আসামি আরিয়ান খুলুদ। মামলাটির ধারাগুলো হলো- দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৩৮৪/৪২৭/৪৪৭/৫০৬(১)/৫০০/৩৪ এবং ৭/৩০ বিশেষ ক্ষমতা আইন। তাঁর বিরুদ্ধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে জানা গেছে।

সোমবার পর্তুগালের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ আরিয়ান খুলুদকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শক্তি পদ মৃধা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর বেলা ২টার দিকে আরিয়ান খুলুদকে ভৈরব থানায় নিয়ে আসা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে ওইদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী মহল ওসি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গভীর রাতে থানা থেকে আরিয়ান খুলুদকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার মৃত বশির মিয়ার ছেলে আরিয়ান খুলুদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি সূত্র জানায়, চারটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৭(১)২০২৬ নম্বর মামলায় আসামি আরিয়ান খুলুদ গত ৩ মে ২০২৬ আদালতে হাজির হলে কিশোরগঞ্জ দায়রা ও জজ আদালতের বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘদিন অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই রি-কল ভৈরব থানায় জমা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ইমিগ্রেশন পুলিশ এসআই শক্তি পদ মৃধার কাছে আরিয়ান খুলুদকে হস্তান্তর করার পর তাঁকে ভৈরব থানায় নেওয়া হয়। পরে ওইদিন রাতে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর স্বাক্ষরবিহীন একটি রি-কল দেখিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাক্ষরবিহীন ওই রি-কলের কপি গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকরা ভৈরব থানা পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রি-কলের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি ওসিকে ফোন করে স্বাক্ষরযুক্ত রি-কল পাঠাতে বলেন। তবে দীর্ঘক্ষণ পর ওসি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি স্বাক্ষরযুক্ত রি-কল পাঠাতে পারেননি বলে জানা গেছে।

ভৈরব থানার এসআই শক্তি পদ মৃধা বলেন, “আরিয়ান খুলুদ পর্তুগালের উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় হওয়া মামলার বাদী তাহমিনা বেগম ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে তারা আসামির পাসপোর্ট ব্লক করে দেয়।”

তিনি বলেন, “সোমবার বেলা ১১টায় ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছ থেকে খুলুদকে নিয়ে দুপুরে থানায় আসি। এই মামলার রি-কল থানায় জমা ছিল না। গতকাল রাতে রি-কলটি থানায় জমা দেওয়া হলে ওসি স্যার তা যাচাই-বাছাই করেন। যেহেতু যাচাই-বাছাই করে রি-কলটি সঠিক হওয়ায় এসপি স্যারের নির্দেশে তাকে রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

এসআই শক্তি পদ মৃধা আরও বলেন, “তার নামে চারটি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে একটি মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন মারামারি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। সে কোনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। বিদেশে যেহেতু চলে যাবে, এখানে একটি সুযোগ পেয়েছে।”

আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “পাসপোর্ট লক থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এর আগে থানা থেকে আবেদন দেওয়ার পর কোর্ট থেকে পাসপোর্টটি লক করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছ থেকে আটক হওয়া আসামি আরিয়ান খুলুদকে ভৈরব থানায় নিয়ে এসে যাচাই-বাছাই করে দেখলাম, তার বিরুদ্ধে কোনো কিছু নেই, কোনো মামলাও নেই, ওয়ারেন্টও নেই। যার জন্য খুলুদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

রি-কলের কপিতে বিচারকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “রি-কলটি আমার কাছে আগে থেকেই আছে। আমি তো কোর্ট থেকে খবর নিয়েছি, সে জামিনে আছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা কোর্ট থেকে অরিজিনালটি আনছি। ফোনে যাচাই-বাছাই করেছি, রি-কলটি সঠিক আছে। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা আছে, চারটিতেই জামিনে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনি চাইলে রি-কলের কপিটি আপনাকে দিতে পারি। ইমিগ্রেশনে যে লক থাকে, সেটি খোলেনি। আবেদন দিলে ব্লকটি খুলে দেবে। রাতেই কনফার্ম হয়েছি, সবগুলোতে জামিনে আছে। আপনারা যেটা পেয়েছেন, সেই কাগজ কে দিয়েছে, আমি জানি না। মূলত সই ছাড়া- এটা তো তথ্য। সই ছাড়া রি-কল হয় না। অনেক সময় ফোনে নিয়ে নেয় না, সেটাই হয়েছে মনে হয়। ওসিকে বলে দিচ্ছি, সইযুক্ত কপিটি যেন আপনাকে পাঠায়।”

সাড়ে চার মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন পাকুন্দিয়ার শাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
সাড়ে চার মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন পাকুন্দিয়ার শাহীন

জীবনের পথচলা সবে শুরু হয়েছিল ২১ বছরের তরুণ শাহীন মিয়ার। বাবার ব্যবসায় হাত লাগিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১৩ মে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে থেমে যায় তাঁর সেই সম্ভাবনাময় জীবন।

মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খুঁটিতে ধাক্কা লেগে মাথা, হাত ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান শাহীন। দুর্ঘটনার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রায় এক মাস অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরপর জ্ঞান ফেরার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন। সব মিলিয়ে সাড়ে চার মাস ধরে চিকিৎসা ও জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে পুনরায় ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া গ্রামের সুজন মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অটোরিকশার শোরুম ‘মেসার্স মাহিন মটরস’-এ বাবার পাশে আর কোনো দিন দেখা যাবে না আদরের ছেলে শাহীনকে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তরুণ শাহীনের অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর নিজ গ্রামসহ এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করে পোস্ট করছেন স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা।

পোড়াবাড়ীয়া গ্রামের কলেজছাত্র ইয়ামিন বলেন, “শাহীন খুব ভালো ছেলে ছিল। অল্প বয়সেই বাবার সঙ্গে ব্যবসায় সময় দিত। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘ সাড়ে চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই মাস আইসিইউতে ছিল সে। তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাঁর এমন মৃত্যুতে সহপাঠী, বন্ধুবান্ধবসহ সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

মঙ্গলবার বাদ আসর পোড়াবাড়ীয়া ঈদগাহ মাঠে শাহীনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি জানাতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি জানাতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিদ্যমান প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দ্রুত আগাম বার্তা পৌঁছানো, জেলাভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা প্রস্তুত এবং বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা ও বরাদ্দ যথাযথভাবে বিতরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, এস এ জিন্নাহ কবীর, নাদিয়া পাঠান পাপন, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ আলী আছগার।

বৈঠকে প্রকল্প কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা ও বরাদ্দ যথাযথভাবে বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী রাখা এবং নির্মাণকাজে ঠিকাদারেরা যাতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়ে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের বিগত ছয় মাসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।