কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, জনবান্ধব মনোভাব ও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিজের একটি স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। দায়িত্বকাল শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে চা-চক্র ও মতবিনিময় সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন তিনি। উপজেলায় প্রথমবারের মতো বিদায়লগ্নে স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্মান জানাতে এমন আয়োজন করেন এই কর্মকর্তা।
কুলিয়ারচরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কুলিয়ারচর প্রেসক্লাবের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর ছিল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি এক আদেশে তাঁর বদলির নির্দেশ জারি হয়। এর পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিদায়ী চা-চক্র ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, আলি হায়দার, মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী সোহেল, লোকমান হোসাইন, আহমেদ সিফাত, মো. কামরুল ইসলাম মুছা, প্রবীর চন্দ্র সূত্রধর শম্ভু, সজীব আহমেদ, মো. সবুজ মিয়া, মাহিন আহমেদ, আজিজুল ইসলাম ও মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নারী সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোছা. শরিফুন্নেছা শুভ্রা, ফারজানা আক্তার, শাহীন সুলতানা ও মোছা. নিলুফা আক্তার নীলাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
বিদায়ী চা-চক্রে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকারের কর্মকালীন সময়ের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করা হয়। এ সময় তাঁর গৃহীত জনসেবামূলক উদ্যোগ, প্রশাসনিক তৎপরতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আবেগঘন বক্তব্যে বিদায়ী ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “ইউএনও হিসেবে কুলিয়ায়রচরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার কর্মজীবনের প্রথম ও অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রশাসনের সহকর্মীবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সহযোগিতা পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। একটি উপজেলার প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বিত অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়ন।”
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জনমুখী করতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। গণমাধ্যম যেমন জনদুর্দশার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে, তেমনি সরকারের উন্নয়নকাজের খবরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। নদীবেষ্টিত কুলিয়ারচরের কৃষি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সভাটি শেষ হয়। সাংবাদিকরা বিদায়ী ইউএনওর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array