হাওর অঞ্চলের ফসল ও জলবায়ু সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টিজনিত ভবিষ্যৎ ফসলহানি কমানো, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা জোরদার, কৃষি ও অবকাঠামোর সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নারী অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা)।
সোমবার (১৮ মে) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমতের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে হাওর অঞ্চলে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও অতিবৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য ফসলহানি কমাতে সমন্বিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) শক্তিশালীকরণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কার্যকর ফসল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং টেকসই ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া খাল-নদী ও জলপ্রবাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বৃদ্ধি এবং দ্রুত ফসল সংগ্রহ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্মারকলিপিতে হাওর অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, সাবমারসিবল সড়কের উন্নয়ন, কৃষক কার্ড হালনাগাদ, নারী কৃষকদের স্বীকৃতি প্রদান এবং নারী কৃষক কার্ড চালুর দাবি উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কৃষি কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং সরকারি ধান সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, হাওর অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইট ও কমিউনিটি সেবা চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে “ক্লাইমেট রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড লস প্রিভেনশন ফান্ড” গঠন এবং হাওর অঞ্চলের জন্য পৃথক “ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট হাওর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান” প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জ্ঞান ও কমিউনিটি উদ্ভাবনকে সরকারি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নারীদের জন্য বিকল্প জীবিকা ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবিও জানানো হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোটের সভাপতি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আলম সারোয়ার টিটু, নারী নেত্রী আতিয়া রহমান, এপিপি অ্যাডভোকেট শাহীনুর কলি (পপি), “সাথী”-এর প্রধান নির্বাহী সাংবাদিক মো. খায়রুল ইসলাম ভূঁইয়া, কালের নতুন সংবাদের সম্পাদক খায়রুল ইসলাম এবং জিকার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল আলমসহ জোটের অন্যান্য সদস্যরা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ফসলহানির ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে কৃষি, জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জলবায়ু সহনশীল পরিকল্পনা গ্রহণ সময়ের দাবি।
তারা হাওর অঞ্চলের কৃষি, জীবিকা, অবকাঠামো, নারী অধিকার এবং জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।










