বকেয়া বিলের কারণে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
১০ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় কিশোরগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রোগী, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে অনেককে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা।
রোগীদের স্বজনরা জানান, সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি ও শিশু রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করছেন। অনেকে উন্নত সেবা পাওয়ার আশায় অন্য হাসপাতালে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল একটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ১০ মাসের বকেয়া জমে যায়। বর্তমানে বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০৮ টাকা। সংশ্লিষ্ট গ্রাহক নম্বর ০৭৫৪০৫৮৮।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ক্লিনিক অফিসার ডা. মো. শহিদুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে দুই থেকে তিনবার বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও বাজেট সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রোগীসেবা কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ বলেন, “বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিধি অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করা হলে পুনরায় সংযোগ চালু করা হবে।”
একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রোগী, স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।













