রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

তাড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পথচারীরা।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তাড়াইল সদর ইউনিয়নের বরুহা সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে যাওয়া শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। পরে স্রোতের পানিতে ভেসে থাকা মরদেহটি ডিঙি নৌকার সাহায্যে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

নিহত শিশুর নাম তরিকুল ইসলাম (৫)। সে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা (জালদরপাড়া) গ্রামের ওমর ফারুক মিয়ার ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিদুন নবী দেওয়ান শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

‘শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’- বায়তুল মোকাররম খতিব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
‘শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’- বায়তুল মোকাররম খতিব

কোরআন ও হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেছেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও ইসলামী শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। তবে দেশীয় ব্যবস্থাপনার কোনো আইনকে ইসলামী শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত সংবিধানে কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরোধী কোনো ধারা যুক্ত হয়ে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করা উচিত।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু শরিয়াহবিরোধী আইনের প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল মালেক তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আকিদাগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলমান দাবি করে এবং নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামী বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যায়। তবে তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামী আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘প্রতারক, বেইমান ও দাজ্জাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্য তাঁর বক্তব্যের অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হলো; কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে এসব অবমাননাকর বিশেষণকে প্রতিবেদনের নিজস্ব বর্ণনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী রয়েছেন এবং তাঁরা নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত। তবে কাদিয়ানিদের বিশ্বাস ও আকিদা নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

বিএসটিআই পরীক্ষায় মানহীন ১০ পণ্য, বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
বিএসটিআই পরীক্ষায় মানহীন ১০ পণ্য, বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

একই সঙ্গে এসব পণ্যের বিপরীতে বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কিনতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

সম্প্রতি নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় অধিকাংশ পণ্যের মান সন্তোষজনক পাওয়া গেলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে পাওয়া যায়।

পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে দুধের চর্বি বা ‘মিল্ক ফ্যাট’ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচ ধরনের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

ব্যর্থ হওয়া পণ্যগুলো হলো—কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ-এ)।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ।

এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পণ্য হলো—বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘি, অরুন বাঘাবাড়ী ব্র্যান্ডের ঘি, নিউ রাঁধুনী ও সিটি ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন পরামিতি নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআই কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯-এ কল অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ জানান মহাপরিচালক।

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা: কারাগারে বিদিশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা: কারাগারে বিদিশা

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে এ মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য তাঁদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডাকেন। সেখানে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রি করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হলেও বাদীকে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বাদীকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২০ মে আদালত বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার ওই সাজা থেকে আপিলের সুযোগে জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।