শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি

সরকার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য মোট ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চলতি বাজেটের ‘অপ্রত্যাশিত খাত’ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে অপ্রত্যাশিত খাতের ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনের জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকায়।

সূত্র অনুযায়ী, অর্থ বিভাগ থেকে অর্থ উপদেষ্টার কাছে ব্যয় অনুমোদনের জন্য একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বাজেটে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা শুধুমাত্র ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ, অর্থাৎ ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। বাকি অর্থ ছাড় প্রক্রিয়াধীন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়, প্রবাসী ভোটার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ চালু করতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা চেয়েছে। এই চাহিদাকে যৌক্তিক বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য জাতীয় বাজেটে মোট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। তবে এই বরাদ্দ দিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মূল বরাদ্দের প্রথম কিস্তি হিসেবে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্ধিত ব্যয়ের প্রথম কিস্তি হিসেবে ২৬৭ কোটি টাকা ইতোমধ্যে অপ্রত্যাশিত খাত থেকে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৮০২ কোটি টাকা ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যয় আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও নির্বাচন ব্যয় নিয়ে কোনো সংকট হবে না। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে পর্যাপ্ত অর্থ প্রয়োজন। অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে সমস্যা নেই। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা যোগাযোগ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে নির্বাচন ব্যয় বাড়ালে তা উদ্বেগজনক হতো। নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে কিছু শর্ত দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০২৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫সহ সব আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ সাশ্রয় হলে ৩০ জুনের মধ্যে তা কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তাবে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ১৮টি খাতে ব্যয় করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে সংশ্লিষ্টদের দৈনিক খোরাকি ভাতায়—৭৩০ কোটি টাকা। সরকারি গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা এবং চুক্তিভিত্তিক যানবাহনে ২০১ কোটি টাকা। মনিহারি পণ্য ক্রয়ে ব্যয় হবে ৫৮১ কোটি টাকা, সম্মানি বাবদ ৫১৫ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ১৬২ কোটি, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ১০৮ কোটি, যাতায়াত ভাতায় ১০৯ কোটি এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারে ১০৩ কোটি টাকা। এছাড়া আপ্যায়ন খাতে ১৮৪ কোটি, পরিবহণ ব্যয় ৮০ কোটি, শ্রমিক মজুরি ৩১ কোটি, স্ট্যাম্প ও সিল ১৭ কোটি, মেশিন ভাড়া ১৫ কোটি, প্রশিক্ষণ ৭ কোটি, ব্যালট বাক্স ৫ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রতিটি ভোট গ্রহণে সরকারের গড় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা।

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালালেও গণভোটে কোনো প্রার্থী বা প্রতীক না থাকায় নির্বাচন কমিশন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে নির্বাচন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে এবং ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।

আগের নির্বাচনের ব্যয়ের তুলনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ২৬৫ কোটি এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের খরচও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: কিশোরগঞ্জের দুইজনসহ নিহত ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: কিশোরগঞ্জের দুইজনসহ নিহত ৯

সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার দুজন রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরগঞ্জের দুজন হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।

এ ছাড়া নিহত অন্যরা হলেন ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা এবং সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২)। বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত কুলিয়ারচরের ফারুক মিয়া (৫২) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন আগেই উড়োজাহাজে ঢাকায় ফিরে যান। পরে ফারুক মিয়া, হাজী সাইফুল ইসলাম ও আরও একজন ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।

ফারুক মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে নিজেকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু হাজী সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, দুর্ঘটনায় হতাহত ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের একজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজনের অস্ত্রোপচার চলছে। অন্য কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মাজার জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুলিয়ারচরের বাসিন্দা হাজী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব মৎস্য খামার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত অনিক মিয়া বেরুয়াইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে। কয়েক বছর আগে তিনি পুলিশের চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিদিনের মতো নিজ খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান অনিক মিয়া। তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খামারে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে খামারের পাশে কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে তল্লাশি চালানো হলে খামারের পানিতে অনিক মিয়ার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ায় মজিবুর রহমান ভুঁইয়াকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ায় মজিবুর রহমান ভুঁইয়াকে সংবর্ধনা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কৃতি সন্তান জি. এম. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (সবুজ)-কে সংবর্ধনা দিয়েছে তাড়াইল উপজেলা যুবদল।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন খোলা জায়গায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আল কামাল মুস্তাক। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল মাসুদ সুমন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তাড়াইল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন সিদ্দিকী বিপ্লব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়া।

এ সময় বক্তব্য দেন তাড়াইল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া শাহীন। আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শরীফুল মাহমুদ শোয়েব, আখলাকুল ইসলাম অংকুর ও আবদুল হাই আজাদ।

বক্তারা বলেন, জি. এম. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (সবুজ) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাড়াইলবাসীর জন্য এটি গর্ব ও আনন্দের বিষয়। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে যুবদল আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবসমাজ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংবর্ধনার জবাবে জি. এম. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (সবুজ) বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন। তিনি তাড়াইলসহ সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর রাউতি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফ আহমেদ, এনামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক হাদিস মিয়া, এমদাদ হোসেনসহ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

অনুষ্ঠানের শেষে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জি. এম. মজিবুর রহমান ভুঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41