শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি

সরকার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য মোট ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চলতি বাজেটের ‘অপ্রত্যাশিত খাত’ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে অপ্রত্যাশিত খাতের ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনের জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকায়।

সূত্র অনুযায়ী, অর্থ বিভাগ থেকে অর্থ উপদেষ্টার কাছে ব্যয় অনুমোদনের জন্য একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বাজেটে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা শুধুমাত্র ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ, অর্থাৎ ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। বাকি অর্থ ছাড় প্রক্রিয়াধীন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়, প্রবাসী ভোটার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ চালু করতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা চেয়েছে। এই চাহিদাকে যৌক্তিক বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য জাতীয় বাজেটে মোট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। তবে এই বরাদ্দ দিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মূল বরাদ্দের প্রথম কিস্তি হিসেবে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্ধিত ব্যয়ের প্রথম কিস্তি হিসেবে ২৬৭ কোটি টাকা ইতোমধ্যে অপ্রত্যাশিত খাত থেকে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৮০২ কোটি টাকা ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যয় আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও নির্বাচন ব্যয় নিয়ে কোনো সংকট হবে না। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে পর্যাপ্ত অর্থ প্রয়োজন। অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে সমস্যা নেই। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা যোগাযোগ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে নির্বাচন ব্যয় বাড়ালে তা উদ্বেগজনক হতো। নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে কিছু শর্ত দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০২৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫সহ সব আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ সাশ্রয় হলে ৩০ জুনের মধ্যে তা কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তাবে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ১৮টি খাতে ব্যয় করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে সংশ্লিষ্টদের দৈনিক খোরাকি ভাতায়—৭৩০ কোটি টাকা। সরকারি গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা এবং চুক্তিভিত্তিক যানবাহনে ২০১ কোটি টাকা। মনিহারি পণ্য ক্রয়ে ব্যয় হবে ৫৮১ কোটি টাকা, সম্মানি বাবদ ৫১৫ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ১৬২ কোটি, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ১০৮ কোটি, যাতায়াত ভাতায় ১০৯ কোটি এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারে ১০৩ কোটি টাকা। এছাড়া আপ্যায়ন খাতে ১৮৪ কোটি, পরিবহণ ব্যয় ৮০ কোটি, শ্রমিক মজুরি ৩১ কোটি, স্ট্যাম্প ও সিল ১৭ কোটি, মেশিন ভাড়া ১৫ কোটি, প্রশিক্ষণ ৭ কোটি, ব্যালট বাক্স ৫ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রতিটি ভোট গ্রহণে সরকারের গড় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা।

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালালেও গণভোটে কোনো প্রার্থী বা প্রতীক না থাকায় নির্বাচন কমিশন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে নির্বাচন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে এবং ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।

আগের নির্বাচনের ব্যয়ের তুলনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ২৬৫ কোটি এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের খরচও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় এলাকাবাসী, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় এলাকাবাসী, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামে অটোরিকশাচালক মো. সোহেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. সোহেলের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত সোহেল বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, আহত সোহেলের মা মোছা. হাজেরা খাতুন গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে হোসেনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-০৭।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আল-আমীন, মো. মাজিম উদ্দিন ও মো. ফুল চাঁদসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও অধিকাংশের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে হামলার প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা জানান, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “উক্ত মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

‘প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিন’-পাকুন্দিয়ায় সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
‘প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিন’-পাকুন্দিয়ায় সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পৌর সদরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা স্বর্ণা চক্রবর্তী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাকুন্দিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নিতাই দাস, পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক মাসুদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের বাসাবাড়ি, আঙিনা এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শুধু একটি দিন নয়, প্রতিদিনই নিজ নিজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।”

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অস্ত্রোপচার সক্ষমতা বাড়াতে জহুরুল ইসলাম মেডিকেলে আধুনিক ওটি কমপ্লেক্স

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
অস্ত্রোপচার সক্ষমতা বাড়াতে জহুরুল ইসলাম মেডিকেলে আধুনিক ওটি কমপ্লেক্স

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন ওটি (অপারেশন থিয়েটার) কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যমান অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্সের সঙ্গে নতুন করে চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার সংযোজন করা হয়েছে, যা হাসপাতালের অস্ত্রোপচার সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সম্প্রতি আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বাহার উদ্দিন ভূঞা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সাঈদ হাসান, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. খালিকুল ইসলাম, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস. এম. ইউসুফ ভূঁইয়া, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. বাহার উদ্দিন ভূঞা বলেন, “চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। নতুন এই অপারেশন থিয়েটারগুলো হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের জন্য আরও নিরাপদ, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের অস্ত্রোপচার সেবা নিশ্চিত করবে। আমাদের লক্ষ্য, দেশের বড় বড় হাসপাতালের মতো আধুনিক চিকিৎসাসেবা এখানেই নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের আস্থা ও সন্তুষ্টিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানবিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেশের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সাঈদ হাসান। তিনি আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে অপারেশন থিয়েটার ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং আধুনিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে।”

অন্যান্য বক্তারাও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার, রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ এবং হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রম আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার চালুর ফলে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের জেলার রোগীরা উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বাড়তি সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নতুন ওটি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাসমূহ ঘুরে দেখেন। উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নতুন এই সংযোজনকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।