সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি

সরকার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য মোট ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চলতি বাজেটের ‘অপ্রত্যাশিত খাত’ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে অপ্রত্যাশিত খাতের ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনের জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকায়।

সূত্র অনুযায়ী, অর্থ বিভাগ থেকে অর্থ উপদেষ্টার কাছে ব্যয় অনুমোদনের জন্য একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বাজেটে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা শুধুমাত্র ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ, অর্থাৎ ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। বাকি অর্থ ছাড় প্রক্রিয়াধীন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়, প্রবাসী ভোটার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ চালু করতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা চেয়েছে। এই চাহিদাকে যৌক্তিক বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য জাতীয় বাজেটে মোট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। তবে এই বরাদ্দ দিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মূল বরাদ্দের প্রথম কিস্তি হিসেবে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্ধিত ব্যয়ের প্রথম কিস্তি হিসেবে ২৬৭ কোটি টাকা ইতোমধ্যে অপ্রত্যাশিত খাত থেকে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৮০২ কোটি টাকা ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যয় আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও নির্বাচন ব্যয় নিয়ে কোনো সংকট হবে না। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে পর্যাপ্ত অর্থ প্রয়োজন। অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে সমস্যা নেই। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা যোগাযোগ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে নির্বাচন ব্যয় বাড়ালে তা উদ্বেগজনক হতো। নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে কিছু শর্ত দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০২৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫সহ সব আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ সাশ্রয় হলে ৩০ জুনের মধ্যে তা কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তাবে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ১৮টি খাতে ব্যয় করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে সংশ্লিষ্টদের দৈনিক খোরাকি ভাতায়—৭৩০ কোটি টাকা। সরকারি গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা এবং চুক্তিভিত্তিক যানবাহনে ২০১ কোটি টাকা। মনিহারি পণ্য ক্রয়ে ব্যয় হবে ৫৮১ কোটি টাকা, সম্মানি বাবদ ৫১৫ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ১৬২ কোটি, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ১০৮ কোটি, যাতায়াত ভাতায় ১০৯ কোটি এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারে ১০৩ কোটি টাকা। এছাড়া আপ্যায়ন খাতে ১৮৪ কোটি, পরিবহণ ব্যয় ৮০ কোটি, শ্রমিক মজুরি ৩১ কোটি, স্ট্যাম্প ও সিল ১৭ কোটি, মেশিন ভাড়া ১৫ কোটি, প্রশিক্ষণ ৭ কোটি, ব্যালট বাক্স ৫ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রতিটি ভোট গ্রহণে সরকারের গড় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা।

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালালেও গণভোটে কোনো প্রার্থী বা প্রতীক না থাকায় নির্বাচন কমিশন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে নির্বাচন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে এবং ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।

আগের নির্বাচনের ব্যয়ের তুলনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ২৬৫ কোটি এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের খরচও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে তিন লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করে, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ জুন) দুপুরে অভিযান শেষে বিকেল ৩টার দিকে মিঠামইন থানার ঘাট এলাকায় জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য প্রজনন মৌসুমে হাওরে মাছের উৎপাদন বাড়ানো ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার রোধে মিঠামইন উপজেলার ছোটদিঘা বিল, দেওদাইর, রাফায়েল বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে, উপজেলার সদরে থানার ঘাটে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এসময় কোন জেলেকে পাওয়া যায়নি। অভিযানকালে, মিঠামইন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

এই বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে জন্য চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধ সকল জাল জব্দ, বন্ধকরণ, অবৈধ বাঁধ ও অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা অপসারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

তাড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পথচারীরা।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তাড়াইল সদর ইউনিয়নের বরুহা সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে যাওয়া শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। পরে স্রোতের পানিতে ভেসে থাকা মরদেহটি ডিঙি নৌকার সাহায্যে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

নিহত শিশুর নাম তরিকুল ইসলাম (৫)। সে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা (জালদরপাড়া) গ্রামের ওমর ফারুক মিয়ার ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিদুন নবী দেওয়ান শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত সরারচর ডাকবাংলো, আবাসন সংকটে ভোগান্তি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত সরারচর ডাকবাংলো, আবাসন সংকটে ভোগান্তি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরারচর ডাকবাংলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের অতিথি এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সংকটে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনাটি এখন ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত ডাকবাংলোটির অবকাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ক্ষয় এবং জীর্ণতা দেখা দেওয়ায় এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে অবস্থান কিংবা কোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, স্বাধীনতারও আগে প্রতিষ্ঠিত সরারচর ডাকবাংলো একসময় এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিশ্রামাগার হিসেবে পরিচিত ছিল। তিন কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভ্রমণকারী এবং সাধারণ যাত্রীরা রাতযাপনের সুযোগ পেতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি আজ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বাজিতপুর উপজেলা সদর থেকে সরারচরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। ফলে রাতে ট্রেনে আগত যাত্রী কিংবা সরকারি কাজে আসা কর্মকর্তাদের জন্য এ এলাকায় নিরাপদ আবাসনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো ডাকবাংলোটি সংস্কার অথবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি গেদু মিয়া ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য নিজের জমি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ দান করেছিলেন। তাঁর দেওয়া জমির ওপরই পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে ডাকবাংলোটি নির্মিত হয়। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খুশিদ উদ্দিন আহমদ খান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনায়েম খানের উদ্যোগে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকবাংলোর দেখভালের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এটি এখন পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, পুরোনো ভবনটি অপসারণ করে আধুনিক নকশায় বহুতল বা অন্তত দ্বিতল ডাকবাংলো নির্মাণ করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সুবিধা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সরারচর এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, “সরারচর ডাকবাংলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সরারচর ডাকবাংলো দ্রুত সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণ করা হবে, যাতে এটি আবারও জনসাধারণ ও সরকারি কাজে ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।