রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে অব্যবহৃত জমিতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজমুল হক বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ইতোমধ্যে বিবেচনার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, মাতারবাড়ীর ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার জন্য প্রস্তুত করা খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জোগানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুবিধা কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে। এ কাঠামোর আওতায় ৩৫ কোটি ইউরো ঋণ এবং ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সহায়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, মাতারবাড়ীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য শুরুতে ছাই সংরক্ষণের কাজে প্রায় ৬৩০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে মাত্র ১০৫ একর জমিতে ছাইয়ের পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বাকি ৫২৫ একর জমি অব্যবহৃত রয়েছে।

এই অব্যবহৃত জমির একটি অংশে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া ছাইয়ের পুকুরের চারপাশে বিদ্যমান ১৪ মিটার উঁচু বাঁধ থাকায় নতুন করে সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণেরও প্রয়োজন হবে না।

প্রকল্পের আওতায় সৌর ফটোভোলটাইক (পিভি) মডিউল, ইনভার্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে নিকটবর্তী মাতারবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ওভারহেড সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

পাশাপাশি মাতারবাড়ী ও চকরিয়া ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সার্কিটের ওভারহেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে তিনটি ও চকরিয়ায় একটি—মোট চারটি ১৩২ কেভি এয়ার ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (এআইএস) বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আশা, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আমদানি করা সরঞ্জাম দ্রুত খালাস ও পরিবহন করা সম্ভব হবে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। পরে এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ৭০ মেগাওয়াট করার সুপারিশ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম প্রধান মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে শিগগিরই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার আগে কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে একই ধরনের চলমান ও সম্পন্ন প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করে প্রধান সরঞ্জামের প্রস্তাবিত মূল্য বিশ্লেষণ, অর্থায়ন কাঠামোর বিষয়ে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন বাড়ানো।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রকল্পটি আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত বলে মনে হলেও সিপিজিসিবিএল মোট ব্যয়ের মাত্র ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা নিজস্ব অর্থায়নের প্রস্তাব করেছে।

পিইসি সভায় সৌর পিভি মডিউল ও ইনভার্টারের গুণগত মান এবং প্রচলিত বাজারদর পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি যানবাহন, অফিস সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র কেনার জন্য বরাদ্দ করা ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা ‘লট’ হিসেবে উল্লেখ না করে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা এবং বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সংস্থা ও অবস্থানভিত্তিক তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নতুন ও অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্যের সঙ্গে প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৯৩৪ দশমিক ৫৪ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ অবস্থায় মাতারবাড়ীতে প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে অব্যবহৃত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের জ্বালানি খাতে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কিশোরগঞ্জে র‍্যালি-আলোচনা সভায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে র‍্যালি-আলোচনা সভায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কালীবাড়ি মোড়সংলগ্ন নজরুল চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিক উল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজমুল করিম, কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তাঁরা যুবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবসের প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

নিকলীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
নিকলীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে যুব র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নিকলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা। সঞ্চালনা করেন মো. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইরফানুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল মামুন, উপজেলা যুব কাউন্সিলের সদস্য আবদুল মান্নান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম লিটন, সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হুসাইন, নারী উদ্যোক্তা শায়লা আক্তার, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যুব উন্নয়নকর্মীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা নিকলীতে একটি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হলে উপজেলার তরুণেরা দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন এবং সঠিক পথে নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তুলতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শামীম আরা বলেন, যুবকদের নিজেদের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। মনোভাব, কর্মদক্ষতা, সহনশীলতা ও কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে নিজ নিজ দক্ষতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নিজের ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ দেশের মূল শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় তিনি যুবকদের মাদক ছেড়ে কর্মমুখী হওয়ার আহ্বান জানান।

কুলিয়ারচরে পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহতের তিন বছর, বিচারের দাবিতে বাবার কান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহতের তিন বছর, বিচারের দাবিতে বাবার কান্না

‘আমার ছেলে তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার হত্যাকারীদের বিচার হলে অন্তত বুকের ভেতরের কষ্টটা কিছুটা হলেও কমবে।’ তিন বছর ধরে সন্তানের হত্যার বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানো এক বাবার কণ্ঠে এভাবেই ঝরে পড়ে আক্ষেপ আর আকুতি।

গত ৩১ অক্টোবর ছিল ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্তানের হত্যার বিচার পাননি তাঁর বাবা। ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রেফায়েত উল্লাহ ও কৃষক দল নেতা বিল্লাল হোসেন।

তাঁদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩১ অক্টোবর শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী গ্রামের কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. ছিদ্দিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজাহার উদ্দিন লিটন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বিপ্লব, ছয়সূতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান সজীব ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কবর জিয়ারত শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বড় ছয়সূতী আরব আলী খান ফুরকানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদ হাসান।

কবর জিয়ারতের আগে নিহত রেফায়েত উল্লাহর বাবা মো. কাউসার মিয়া ও দলীয় নেতারা দ্রুত বিচার দাবি করেন। কাউসার মিয়া জানান, ছেলেকে হারানোর পর তাঁর লাশ দাফন করতেও চরম কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল পরিবারকে। সে সময় পরিবার ও স্বজনদের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুর্বিষহ পরিস্থিতির স্মৃতি এখনো তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাঁর অভিযোগ, তখন পুলিশি বাধার কারণে আত্মীয়স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য এলাকায় স্বাভাবিক চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ পালন করা হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালায়। এ ঘটনায় তৎকালীন কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফার নির্দেশনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

সম্প্রতি এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে অর্থ লেনদেন ও স্বার্থ হাসিলের গুঞ্জন ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো অসত্য অভিযোগও তোলা হচ্ছে শোকাহত পরিবারটির বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাউসার মিয়া বলেন, ‘একজন বাবা কি এতটাই লোভী হতে পারে যে, নিজের সন্তানের লাশের বিনিময়ে টাকা নেবে? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার সন্তানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে যদি কেউ কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন করে থাকে, তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য বের করা হোক।’

বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। নিহত রেফায়েত উল্লাহ ছিলেন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। এরপরও তিন বছরেও বিচার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর পরিবার প্রশ্ন করেছে, ‘কেন আজও আমাদের মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে? আমার ছেলের হত্যার বিচার কি আমি জীবিত থাকতেও দেখে যেতে পারব না?’

সন্তান হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী মা এবং এক বাবার দীর্ঘদিনের বিচারপ্রার্থনার লড়াই যেন থামছেই না। এ অবস্থায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপির কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন কাউসার মিয়া। তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমার সন্তানের হত্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করুন। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে আপনার কাছে ন্যায়বিচার চাই।’

নিহত রেফায়েত উল্লাহ ও বিল্লাল হোসেনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।