শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

হোসেনপুরে জনসেবামূলক উদ্যোগে সক্রিয় রেকসোনা খাতুন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে জনসেবামূলক উদ্যোগে সক্রিয় রেকসোনা খাতুন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় যোগদানের এক মাস ১১ দিনের মধ্যেই জনসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের নাগরিক ভোগান্তি কমানো, প্রশাসনিক সেবা সহজ ও জনবান্ধব করা এবং দীর্ঘদিনের স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া, সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনা এবং সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ইউএনও রেকসোনা খাতুন। বিশেষ করে উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা, পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা, বাজারের শৃঙ্খলা, যানজট নিরসন এবং জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।

হোসেনপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসকের পদটি শূন্য থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি পৌর এলাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়টিও তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হচ্ছে।

পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিরুৎসাহিত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে পৌর এলাকার পরিবেশ আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়ে উঠবে।

হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনপদের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

হোসেনপুর বাজারে ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রি প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন ইউএনও রেকসোনা খাতুন। বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ও জরিমানা করা হচ্ছে।

এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাজারে নিয়মিত তদারকি, পণ্যের মান যাচাই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

হোসেনপুরে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ও অবৈধ দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব ঘটনায় অনেক সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ ধরনের সমস্যায় প্রকৃত মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আইনানুগ সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

হোসেনপুর বাজারের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানো এবং শৃঙ্খলাহীন চলাচলের কারণে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানজটের কারণে শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।

এ সমস্যা নিরসনে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যানজট কমানোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাজারের যানজট পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে।

সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন রেকসোনা খাতুন। মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাঁদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের মানসিকতাকে স্থানীয়রা একজন জনবান্ধব কর্মকর্তার ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যানজট নিরসন, বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে তিনি কাজ করে যেতে চান। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

হোসেনপুরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, যোগদানের শুরুতে নেওয়া এসব উদ্যোগ শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজারের যানজট নিরসন, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং সাধারণ মানুষের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার আইনানুগ সমাধানে প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা থাকবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে না; প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দায়িত্বশীলতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা স্থানীয় উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই ইউএনও রেকসোনা খাতুনের বিভিন্ন জনসেবামূলক উদ্যোগ হোসেনপুরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং হোসেনপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

করিমগঞ্জে মাদক কারবারির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে মাদক কারবারির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মাদক কারবারের অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের বারবার্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মাদকবিরোধী বিক্ষুব্ধ জনতা মোস্তফা নামের ওই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘরের ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে করিমগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুস্তম আলী জানান, মোস্তফা প্রায় দুই যুগ ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। প্রথম দিকে তিনি গাঁজা বিক্রি করতেন। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবার বন্ধ করতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এর আগে মোস্তফাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি এবং পুনর্বাসনে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন স্থানীয় নেতৃত্ব ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তবে প্রায় দুই মাস বিরতির পর তিনি আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে খুচরা মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মোস্তফার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এতে এলাকার পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁর বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের এক মাস, ভৈরবে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের এক মাস, ভৈরবে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী রুকন উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হলেও রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়নি। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীও অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁদের কয়েকজনকে সড়কের ওপর ফুটবল খেলতেও দেখা যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। তাঁরা রুকন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সড়কের ওপর বিক্ষোভকারীদের ফুটবল খেলার দৃশ্যটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

নিহত রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। তিনি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে গোয়ালঘরের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রুকন উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

গুদাম ছাড়াই সারের ডিলারশিপ! কটিয়াদীতে খোকন এন্টারপ্রাইজ ঘিরে বিতর্ক

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
গুদাম ছাড়াই সারের ডিলারশিপ! কটিয়াদীতে খোকন এন্টারপ্রাইজ ঘিরে বিতর্ক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়ার (৫৫) বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি সার ডিলারশিপ পেল? তাঁদের অভিযোগ, ডিলারশিপের জন্য দেখানো স্থানে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের উপযোগী পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি তাঁর মালিকানাধীন খোকন এন্টারপ্রাইজকে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ডিলারশিপের জন্য দেখানো স্থানে সার সংরক্ষণের উপযোগী পর্যাপ্ত গুদাম রয়েছে কি না, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থানে মুদি দোকানের কার্যক্রম চললেও সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। কৃষকদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা ছাড়া কীভাবে সার সংরক্ষণ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হবে? এতে সারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে যথাসময়ে সার পৌঁছে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বসতবাড়িসংলগ্ন মুদি দোকানকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে এবং পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা অনিয়ম কাজ করেছে কি না, তা-ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডিলারশিপ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খোকন মিয়া তাঁর আবেদনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “আমি যখন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করি, তখন আমার মুদি দোকান ছিল। কৃষি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে তাঁদের বলেছিলাম, এটি আমার মুদি দোকান। আমাকে ডিলারশিপ দেওয়া হলে দোকানটি ভেঙে এখানেই সারের গোডাউন তৈরি করব।” এ সময় তিনি তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে খোকন এন্টারপ্রাইজের নামে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কিংবা উপযুক্ত গুদামজাতকরণ সুবিধা ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে একটি বড় ঘর দেখেছি। এখন হয়তো তিনি সেটি ভেঙে অন্য কিছু তৈরি করতে পারেন। খোকন এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

অন্যদিকে, গৌরীপুর গ্রামটি সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সার সংগ্রহে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্র নয়, গুদামের বাস্তব অবস্থা, সার সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং কৃষকদের যাতায়াতের সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকেরা খোকন এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপের আবেদনপত্র, নিয়োগের শর্ত, সরেজমিন পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং বর্তমানে গুদামের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ এবং সরকারি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।