ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাধিক স্থানে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় যান চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সংঘর্ষের কারণে টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে গণপরিবহন ঘুরিয়ে ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকে পড়া বাসগুলো নিরাপত্তার কারণে যাত্রী নামিয়ে ঢাকাসহ কাছাকাছি নিরাপদ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুরের বাংলাবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, বাসন, হাড়িকেন ও বোর্ডবাজারের সাইনবোর্ড এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গণপরিবহন টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে পাঠানো হচ্ছে। কিছু বাসের যাত্রীদের নামিয়ে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
টঙ্গী স্টেশন রোডে ঢাকাগামী ভিআইপি পরিবহনের চালক বাসার মিয়া বলেন, ‘সামনে গোলমাল, তাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।’ বসুমতি ও অনাবিল পরিবহনের চালকেরাও একই ধরনের কথা জানিয়েছেন।
টঙ্গীর মিলগেটে ময়মনসিংহগামী যাত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে ময়মনসিংহে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন। কিন্তু বাস না যাওয়ায় এবং সামনে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।
টঙ্গী স্টেশন রোডে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই মিলন জানান, গাজীপুর চৌরাস্তার দিকে আন্দোলনের কারণে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে কিছু বাস আগেই যাত্রী নামিয়ে ঢাকার দিকে ফিরে যাচ্ছে। অন্য কিছু বাস টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে বাইপাস হয়ে গাজীপুর যাচ্ছে।
পাঁচ দিন ধরে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক শ্রমিক গতকাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর বুধবার আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রাজপথে অবস্থান করছেন।
Disqus comments are not configured yet.