শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগে তিন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগে তিন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের আভাস

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তারা বর্তমানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তাদের পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তাদের পদত্যাগের ফলে এসব তিন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার পদ শূন্য হয়ে যাবে।

দুই উপদেষ্টা সরে গেলে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, নাকি পুরনো উপদেষ্টাদের মধ্য থেকেই এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারের বিভিন্ন সূত্র বলছে, নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের সম্ভাবনা কম। শেষ মুহূর্তে এসে পুরনো উপদেষ্টাদের মধ্যেই দায়িত্ব বণ্টন করার সম্ভাবনাই বেশি।

এদিকে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের গুঞ্জন অনেক দিন ধরেই চলছে। তারা প্রার্থী হন বা না হন, তাদের পদত্যাগের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্য একমত পোষণ করছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সেখানে তিনি পদত্যাগ এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জোর গুঞ্জন রয়েছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন। উপদেষ্টা পরিষদের বৃহস্পতিবারের বৈঠকই তাদের শেষ বৈঠক হতে পারে।

আলোচনায় রয়েছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, যিনি বর্তমানে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। অতিরিক্তভাবে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক আলী রীয়াজকেও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া আছেন ২২ জন উপদেষ্টা। দুইজন পদত্যাগ করলে এই সংখ্যা কমে হবে ২০ জন। প্রধান উপদেষ্টা বর্তমানে পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। দশজন ছাড়া অন্য সব উপদেষ্টাই একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

টেস্ট নিউজ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
টেস্ট নিউজ

টেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজ

হোসেনপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, সবুজায়নে নতুন প্রত্যয়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, সবুজায়নে নতুন প্রত্যয়

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্ভোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, এসময় সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ কিশোরগঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(উপসচিব) মোছাঃ মোস্তারী কাদেরী। এছাড়াও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও জনগণের উপস্থিতি ছিল।

শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার একটি গ্রামীণ এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। এ সময় পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান গাছপালার সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তারা প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি গাছ রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না; রোপণকৃত গাছের টেকসই পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা প্রতীকীভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকায় সবুজায়ন আন্দোলনের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি আরও বিস্তৃত আকারে অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলার পিএমখালির ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে রোপণকৃত চারার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সময়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।

সরকারের ঘোষিত ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’-এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, পরিবেশসচিব রায়হান কাওছারসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিক রোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং চারার পরিচর্যা ও টেকসই সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও ক্রীড়াভিত্তিক একাধিক পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়। একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।