রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন ও গণভোট হবে, সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ নেই: ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন ও গণভোট হবে, সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ নেই: ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সময়সূচি নিয়ে কোনো ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপচেষ্টা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল। তিনি বলেন, “কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।”

ড. ইউনূস জানান, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে দুই কূটনীতিক আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ রুদ্ধ করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে জনগণ এখন সচেতন এবং এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওও শনাক্ত করতে পারছে।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ সম্ভব কি না, সে বিষয়ে জানতে চান।

জবাবে প্রফেসর ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সেই প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তবে অভিযুক্তরা এখনো অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনা না করায় বাংলাদেশে এ মুহূর্তে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় আসেনি।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

‘বড় বড় কথা বলে যারা, বিগত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখিনি’: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
‘বড় বড় কথা বলে যারা, বিগত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখিনি’: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল রাজপথে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। অথচ বর্তমানে যারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলছেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের গত ১৭ বছরে রাজপথে দেখা যায়নি।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে তারা কী করবে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা মানুষ দেখেছে। একইভাবে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালেও তাদের ভূমিকা দেখা গেছে। গত ১৭ বছরের আন্দোলনেও তাদের রাজপথে দেখা যায়নি।

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখেছেন আপনারা?’

তারেক রহমান বলেন, এখন অনেকে ‘সংস্কার, সংস্কার’ বলে কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপি ২০২২ সালেই সংস্কারের কথা বলেছিল। তখন সংস্কার নিয়ে তারা কোথায় ছিলেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাবনা বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এখন দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কেউ অতীতের মতো জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, আমরা জানি তোমরা অতীতে কী করেছ। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেব না।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড এসব উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করেন। পরে কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।

কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে বৃষ্টির মধ্যে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।

স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মৎস্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেন প্রধানমন্ত্রী।

মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদের এ পদক দেওয়া হয়। পরে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ সফর শেষে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে আদালতের ভূমিকাই মুখ্য: ভারতীয় কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে আদালতের ভূমিকাই মুখ্য: ভারতীয় কর্মকর্তা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে না; বরং ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনের অধীনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা প্রত্যর্পণ আবেদনের বিচারিক পর্যালোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক নথিপত্র ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, আবেদনটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকলেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলোর প্রকৃতি এবং সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না—প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের Extradition Act, 1962 অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো প্রত্যর্পণ আবেদন গ্রহণের পর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষ তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।

ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করা হতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা প্রত্যর্পণ আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথও খোঁজা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক আলোচনার দুটি ধারাই পাশাপাশি এগোতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট আইন এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমও প্রত্যর্পণ ইস্যুটিকে নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক তাগিদ আরও জোরালো হয়েছে। তবে তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা দেশটির আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক বিবেচনার সমন্বিত ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41