শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

তারেক রহমানের সফর চায় ভারত, সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়াদিল্লির তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তারেক রহমানের সফর চায় ভারত, সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়াদিল্লির তৎপরতা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে নিতে গত কয়েক দিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়ী হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায় দেশটি। তবে এখনো সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে নেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির তৎপরতা নিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

বিবিসির প্রতিবেদনে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একটি বার্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট গার্ডের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান বাতিল করে তাদের মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ওই সময় পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্ত হয়নি।

বিবিসি বলেছে, ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের ওই বার্তা তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরে নেওয়ার জন্য ভারতের আগ্রহ ও প্রস্তুতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে। তবে বার্তাটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর এটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হবে।

বিবিসি আরও বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ওই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত হন এবং শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান।

এরপর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারত মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি জটিল বিষয় হয়ে রয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে তাকে ভারতের কাছে ফেরত চেয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী পরে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান এবং স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত কোনো প্রতিবেশী দেশের নেতার সফর নিয়ে ভারত প্রকাশ্যে এ ধরনের আগ্রহ বা উদ্দীপনা খুব একটা দেখায় না। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে নয়াদিল্লির তৎপরতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ঢাকার কঠোর অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লি এখন কিছুটা হতাশ হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কিছু চাহিদা ভারত পূরণ করেছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, মেডিকেল ভিসা দেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ করতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশের সরকার সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে সহযোগিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উপেক্ষা করেছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় দুই দেশের সম্পর্কে ওই বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট দিল্লির অল ইন্ডিয়া প্রেসক্লাবে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার প্রভাব পড়তে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরেও। ফলে নয়াদিল্লির আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

৩১ অননুমোদিত অ্যাপে তথ্য দিতে মানা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
৩১ অননুমোদিত অ্যাপে তথ্য দিতে মানা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরবর্তী সময়ে ঋণের টাকা আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এসব অ্যাপ ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের তালিকায় রয়েছে-

সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে সংস্থাটির কাছে অভিযোগ করা যাবে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে ঋণ পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা ও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

বিএফআইইউর সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং আর্থিক হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা।

নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর হাওরপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর হাওরপাড়

সংগ্রহীত ছবি

হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। চারদিকে থইথই পানি। পানির বুক চিরে ছুটে চলছে একের পর এক নৌকা। একসঙ্গে বৈঠা চালাচ্ছেন মাঝিরা। হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শকদের করতালি, হর্ষধ্বনি ও উচ্ছ্বাসে মুখর চারপাশ। নৌকা বাইচকে ঘিরে নিকলী হাওরে ফিরে আসে গ্রাম বাংলার চিরচেনা উৎসবের আবহ।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার আসানপুর-কাঠালকান্দি এলাকাবাসীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নিকলী হাওরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। দুপুরের পর হাওরের চারপাশে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়।

নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় নৌকা নিয়ে মানুষ ছুটে আসেন প্রতিযোগিতা দেখতে। কেউ নৌকায় বসে হাওরে ভেসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন, আবার কেউ হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার ছুটে চলার দৃশ্য উপভোগ করেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় আনন্দমুখর মিলনমেলায়।

প্রতিযোগিতা শুরুর সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝিরা একযোগে বৈঠা চালাতে শুরু করেন। মুহূর্তেই নৌকাগুলো ছুটে চলে পানির ওপর দিয়ে। একে অপরকে পেছনে ফেলে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বৈঠার ছন্দ যত বাড়তে থাকে, দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ততই বাড়তে থাকে।

এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়—২০ মাঝির নৌকা ও আনলিমিটেড মাঝির নৌকা। দুই ক্যাটাগরিতেই বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ মাঝির ক্যাটাগরিতে মাতাব মাঝির নৌকা এবং আনলিমিটেড ক্যাটাগরিতে সেলিম মাঝির নৌকা বিজয়ী হয়।

প্রতিযোগী মাঝি আমিরুল ইসলাম বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের কাছে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। বৈঠা হাতে নৌকা নিয়ে পানিতে নামার পর জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি আলাদা আনন্দ কাজ করে।”

আরেক প্রতিযোগী হিমেল মিয়া বলেন, “বাইচের সময় পরিবেশটা একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। একসঙ্গে অনেক মাঝি বৈঠা চালালে নৌকা দ্রুত ছুটে চলে। দর্শকদের চিৎকার ও করতালিতে আমাদের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।”

বিজয়ী দলের সদস্য রুমান বলেন, “জয়ের জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সবাই সমন্বয় করে বৈঠা চালিয়েছি। বিজয়ী হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, এত মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে এসেছে।”

নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, “আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে গ্রাম বাংলার অনেক লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরে। নতুন প্রজন্মও আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে।”

দর্শনার্থী রাকিব হোসেন বলেন, “অনেক দিন পর নৌকা বাইচ দেখে খুব ভালো লাগছে। হাওরের পানিতে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয়দের কাছে নৌকা বাইচ শুধু খেলা বা বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বর্ষায় হাওর পানিতে ভরে উঠলে নৌকা হয়ে ওঠে মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই নৌকাকে ঘিরেই একসময় গ্রাম বাংলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠত নৌকা বাইচ।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখাই ছিল আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।”

প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়ার সময়ও ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। দর্শকরাও করতালি দিয়ে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

হাওরের জলরাশি, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে নিকলী হাওরে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির প্রাণবন্ত এক রূপই যেন নতুন করে সামনে আসে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৮৯, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৮৯, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১

নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপাল নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দেশের আটটি জেলা থেকে ৪৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চিতওয়ান জেলায় ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্ব) জেলায় ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিম) জেলায় ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির পুলিশের হিসাবে, এখনো ২ হাজার ৩৮১ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের বেশিরভাগই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক।

এ ছাড়া বিদেশে বসবাসকারী বা বিদেশ থেকে ভ্রমণে আসা ১২৭ জন নেপালি এবং দেশের অভ্যন্তরের আরও ১ হাজার ৭৩৭ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নেপাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পুলিশ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক থেকে বাধা অপসারণ এবং নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি থাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।