বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

তাড়াইলে ৩১০ পিস নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলে ৩১০ পিস নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ২৮৫ পিস নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ২৫ পিস চায়না দুয়ারী (রিং) জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। পরে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাড়াইল সদর বাজারে মাছুম মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এসব জাল জব্দ করা হয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী।

অভিযান চলাকালে উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন মেসার্স লাবিব পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স না থাকায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মৎস্য ও পশুখাদ্য-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

পরে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী (রিং) জাল তাড়াইল উপজেলা পরিষদের খোলা জায়গায় নিয়ে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মারুফ আকন্দ। তাড়াইল থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে সহযোগিতা করেন।

তাড়াইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার জলজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। টেকসই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে সেভ দ্য চিলড্রেন-ইউনিসেফ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে সেভ দ্য চিলড্রেন-ইউনিসেফ

কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের POWER প্রকল্পের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তা, শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোডের উকিলপাড়ায় অবস্থিত ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ প্রতিষ্ঠানে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়ি থেকে কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার পথে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয় কি না, রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়েও জানতে চান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

এ সময় প্রশিক্ষণার্থী কানিজ ফাতেমা জানান, অর্থের অভাবে তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

তার কথা শুনে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফের কর্মকর্তারা তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। সরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিজেদের দক্ষতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীকেও উৎসাহিত করেন তারা।

পরিদর্শনকালে বেকার ও অসহায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নারীরা যাতে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২০১৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধিত ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ প্রতিষ্ঠানটি নারীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫৩/২৪।

প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার, সেলাই, কেক বেকিং, বিউটিশিয়ান, শোপিস তৈরি, হ্যান্ড স্টিচ, কুশিকাঁটা, ব্লক, এমব্রয়ডারি, বাটিক, হ্যান্ডপ্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্ট, আইসক্রিম তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড প্রস্তুতিসহ মোট ১২টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। কেউ প্রতিষ্ঠানটিতেই কাজ করছেন, আবার কেউ নিজ বাড়িতে বসে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে অনলাইনে বিক্রির মাধ্যমে আয় করছেন। প্রশিক্ষণ ও সনদ নিয়ে কয়েকজন নারী দেশ-বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তারা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নারী উদ্যোক্তা সুমি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জে জেন্ডার প্রমোটার শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার অর্জন করেছি। বর্তমানে ১২টি বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। পাশাপাশি জাতীয় যুব পুরস্কারের বিচারক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছি।’

সুমি বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বেকার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই তার লক্ষ্য।

পরিদর্শন শেষে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের POWER প্রকল্পের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তারা।

নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে সিদ্দিক মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিদ্দিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ লাল মাহমুদের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক এবং পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতা ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির লোকজন সিদ্দিক মিয়াকে বাড়ির একটি গাছের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সিদ্দিক মিয়া কয়েক বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করছিলেন না। তাঁর আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা ছিল বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান জোয়ারদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

চাঁদা না দেওয়ায় অফিসকক্ষে প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
চাঁদা না দেওয়ায় অফিসকক্ষে প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল ইসলাম (৪০) নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত চারজন হলেন—সোয়াইর আহমেদ (৪২), আবু বকর সিদ্দিক (৫৫), জাকির হোসেন (৩৬) ও ইশতিয়াক আহমেদ (৩৮)। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পদে কর্মরত বলে জানা গেছে।

মাহমুদুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে একটি কেন্দ্রীয় নেতার সংবর্ধনা আয়োজনের কথা বলে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। তবে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত চারজন মাহমুদুল ইসলামের অফিসকক্ষে গিয়ে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন মাহমুদুল ইসলাম।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে এসে মাহমুদুল ইসলামকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

পরে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আমাকে অফিসের ভেতরে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

তবে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চাঁদা দাবির বিষয়টিও সত্য নয়। সিবিএ নিয়ে মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আমার গায়ে হাত তোলেন। পরে ধাক্কাধাক্কি হলে আমি দুজনকে ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় তাঁর শরীরে আঘাত লাগতে পারে, তবে আমরা তাঁকে মারধর করিনি।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অভিযোগ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ঘটনাটি চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে নাকি কর্মক্ষেত্রের অন্য কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।