চাঁদা না দেওয়ায় অফিসকক্ষে প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল ইসলাম (৪০) নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত চারজন হলেন—সোয়াইর আহমেদ (৪২), আবু বকর সিদ্দিক (৫৫), জাকির হোসেন (৩৬) ও ইশতিয়াক আহমেদ (৩৮)। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পদে কর্মরত বলে জানা গেছে।
মাহমুদুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে একটি কেন্দ্রীয় নেতার সংবর্ধনা আয়োজনের কথা বলে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। তবে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত চারজন মাহমুদুল ইসলামের অফিসকক্ষে গিয়ে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন মাহমুদুল ইসলাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে এসে মাহমুদুল ইসলামকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
পরে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আমাকে অফিসের ভেতরে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চাঁদা দাবির বিষয়টিও সত্য নয়। সিবিএ নিয়ে মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আমার গায়ে হাত তোলেন। পরে ধাক্কাধাক্কি হলে আমি দুজনকে ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় তাঁর শরীরে আঘাত লাগতে পারে, তবে আমরা তাঁকে মারধর করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অভিযোগ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনাটি চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে নাকি কর্মক্ষেত্রের অন্য কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array