মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকুন্দিয়ায় পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকুন্দিয়ায় পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। পাকুন্দিয়া উপজেলা মৎস্য অফিস এ কার্যক্রমের আয়োজন করে।

এ উপলক্ষে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুকুরে পোনামাছ বিতরণ করা হয়। পরে উপজেলার বিলভরা বিলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।

পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-ই-আলম।

এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন (ভিপি), পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক হোসেন রিপন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলম জনিসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হাতকড়াসহ আওয়ামী নেতা পালানোর ঘটনায় পুলিশের মামলা, ওসি ক্লোজড

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
হাতকড়াসহ আওয়ামী নেতা পালানোর ঘটনায় পুলিশের মামলা, ওসি ক্লোজড

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কারণে তাঁকে ক্লোজড করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।

রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পরে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে, অর্থাৎ পালানোর প্রায় দশ ঘণ্টার মধ্যে, মাধবদী এলাকায় তাঁকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া, পুলিশের কাজে বাধা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ২২৪, ২২৫, ৩৫৩ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এসআই শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তাঁরা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

রেনু মিয়াকে আটকের পর তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাতজন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মোছা. ইতি আক্তার, মোছা. সাদিয়া, মোছা. আকলিমা আক্তার ও রত্নাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্য তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ একজন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কারণে তাঁকে ক্লোজড করা হয়েছে।

ভৈরবে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৬ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ২৯

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৬ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ২৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রাতভর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক ছিনতাইকারী, ভবঘুরে ও কিশোর গ্যাং সদস্য এবং ২৬ মামলার আসামিসহ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত ভৈরব শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে ১৫ জুন ও ১৩ আগস্ট পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক ছিনতাইকারী, ভবঘুরে ও কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ৯২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৯ জনকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এ সময় আটক ১৮ জনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করা হয়। তাঁরা নিজেদের দোষ স্বীকার করলে মাদক সেবন, বিক্রি ও বহনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ভৈরব ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। একাধিকবার ভৈরবের অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানরা যেন রাত ১২টার পর প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যায়। এর আগেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভৈরবের বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভৈরবের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে থানার চত্বরে অভিভাবকেরা ভিড় করেন। এ সময় তাঁদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক ও সতর্কতামূলক বক্তব্য দেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ। তিনি বলেন, রাত ১২টার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে থাকা যাবে না। এর আগে দু’দফায় ৯২ জনকে আটকের পর মূল আসামিদের রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন থেকে থানায় এলে আর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জানান, ২৬ মামলার আসামি সোহাগ মিয়া (৩২) ও চার মামলার আসামি হাসান মিয়াসহ (২৩) ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। রাতভর বিশেষ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মাদক মামলায় একজন, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় দুজন, জিআর/সিআর পরোয়ানাভুক্ত চারজন ও সন্দেহভাজন চারজনসহ বিভিন্ন মামলায় ১৮ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন ও মাদক রাখার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা বেশি। আটক ১৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের পৃথক দুটি অভিযানে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২-এর একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি মো. ফরিদ মিয়ার (৪৫) বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানার হাবিব নগর নাকভাঙ্গা বাজার বৌলাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফরিদ মিয়া বৌলাই এলাকার মন্নাফ মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব জানায়, ফরিদ মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-২৫(৬)১৪-এর আসামি। ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) সারণির ৭(ক) ধারায় আদালত তাঁকে দুই বছরের সাজা দেন। তিনি ওই মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

অপর একটি আভিযানিক দলও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি মো. রুবেল ফকিরের (৩৫) অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানার লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেল ফকির বেরুয়াইল কলাপাড়া এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, রুবেল ফকির কিশোরগঞ্জ সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৪৭(৫)১৯-এর আসামি। ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় আদালত তাঁকে দুই বছরের সাজা দেন। তিনিও ওই মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে র‌্যাব সূত্রে জানানো হয়েছে।