মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কটিয়াদীতে দুই বন্ধুর হট্টগোল, একজন হাসপাতালে অন্যজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে দুই বন্ধুর হট্টগোল, একজন হাসপাতালে অন্যজনের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গভীর রাতে দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মধ্যে হট্টগোলের ঘটনায় সোহান (২৪) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এর কিছু সময় পর শামীম (২৫) নামে অপর বন্ধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁরা দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। সোমবার সকালে মসজিদসংলগ্ন একটি ছোট কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গুরুতর আহত সোহানকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোহান একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে।

প্রথমে দুই বন্ধুর মধ্যে কী কারণে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, হট্টগোলের পর কোনো কারণে শামীম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে শামীমের পরিবারের দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যার ঘটনা নয়; এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য থাকতে পারে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামীম ও সোহান দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এর আগে তাঁদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য দেখেননি স্থানীয়রা। শামীম স্থানীয় ফেকামারা আলিম মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি ওই মসজিদে ইমামতি করতেন। সোহানের বাড়িও মসজিদসংলগ্ন। দুজনই অবিবাহিত। মাঝেমধ্যে তাঁরা মসজিদসংলগ্ন ওই কক্ষে একসঙ্গে রাতযাপন করতেন।

ঘটনার রাতে ওই কক্ষ থেকে হট্টগোলের শব্দ পান পাশের বাড়ির লোকজন। পরে কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শরীর ও গলায় ক্ষতচিহ্ন ছিল। আহত সোহান তাঁদের জানান, শামীম তাঁকে আঘাত করেছেন। পরে তাঁকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়।

এর কিছু সময় পর স্থানীয়দের মাধ্যমে হট্টগোলের ঘটনা জানতে পেরে শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া মসজিদসংলগ্ন ওই কক্ষে যান। সেখানে তিনি ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ও চাচা আবু তাহের বলেন, শামীম এলাকায় কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করেননি। সবাই তাঁকে ভালো ছেলে হিসেবে জানেন। তিনি নিজে থেকে আত্মহত্যা করবেন—এটা তাঁরা বিশ্বাস করেন না। ঘটনার পেছনে অন্য কিছু থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ। তাঁরা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানান।

আহত সোহানের চাচি স্বপ্না বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর গলা ও শরীরে ক্ষতচিহ্ন ছিল। সোহান তাঁদের জানান, শামীম তাঁকে আঘাত করেছেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের দুজনের মধ্যে আগে কোনো বিরোধ ছিল না বলেও জানান তিনি।

জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, কী নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে, তা কেউ বলতে পারছেন না। তাঁরাও কোনো ধারণা করতে পারছেন না। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিষয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত বন্ধু সোহানের জবানবন্দি পাওয়া গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভৈরবে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
ভৈরবে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গোয়ালঘরের পাশে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা রুকন উদ্দিন নামে এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে একটি গাছে রুকন উদ্দিনের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তাঁর ভাই রুবেল মিয়া। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের ভাই রুবেল মিয়া বলেন, “আমার ভাই ২১ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছে। রাত ১০টায় খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিল। ভোরে আমি শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, গোয়ালঘরের পাশে আমার ভাইয়ের হাত-পা বাঁধা মরদেহ ঝুলছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।”

নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া বলেন, “আমার দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ছোট ছেলে ছিল রুকন। তিন বছর আগে জমি বিক্রি করে ওকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলাম। সেখানে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। দেশ থেকে ফিরে সুপারভাইজার হিসেবেই কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। বাড়ির কাজ ধরবে বলে কিছু টাকাও জমিয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলের আর স্বপ্ন পূরণ হলো না। ও আমাদের হজ করিয়ে এনেছে। ওর কোনো শত্রু ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি রাতে বাড়িতে থাকি না। ক্ষেতে সেচের পানি দিতে রাতে জমির পাশেই থাকতে হয়। ভোরে নাতনি ডেকে পাঠালে এসে দেখি, ছেলেকে কে বা কারা মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘুরতে যাওয়ার জন্য কেনাকাটা করার কথা বলে ছেলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। জানিয়েছিল, সে কক্সবাজার যাবে। টাকা দেওয়ার পর গতকাল ভৈরব শহরে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটাও করে।”

ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি চলছে। আশপাশের এলাকার লোকজনও বাড়িতে ভিড় করছেন। মা-বোনদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতের মা অনুফা বেগম চিৎকার করে বলেন, “আমার সোনার টুকরো ছেলেকে কেন এবং কারা হত্যা করল? আমার ছেলের তো কোনো শত্রু নেই!”

অনুফা বেগম আরও বলেন, “আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার চলে যাওয়ার কথা ছিল ওর। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। যেহেতু ভোরে চলে যাবে, তাই রাতে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করলেও ডাকিনি। রাত ১টার দিকে ওকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনেছি। হঠাৎ রাত ১টার পর কোনো একসময় আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বসতঘরের পাশে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে।”

নিহতের বোন উম্মে হাবীবা বলেন, “আমার ভাইয়ের আজ ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে ঘুরে এসে আবার সিঙ্গাপুর চলে যেত। বাড়ির কাজ শেষ করে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল। বাড়ির নকশাও পছন্দ করেছিল। ওর অনেক স্বপ্ন ছিল। রাতে ওকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি ওর মোবাইল ফোন থেকে সিমকার্ড খুলে নিয়ে গেছে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা খুনির ফাঁসি চাই।”

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে যান। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলার ১৩টি উপজেলার ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা নাশকতা না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ এবং আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ একা নয়; পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ করে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।

পুলিশ সুপার ধর্মীয় নেতাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

১১১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, মিঠামইনে ডিলারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
১১১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, মিঠামইনে ডিলারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অবৈধভাবে পাচারের সময় ১১১ বস্তা ইউরিয়া সারসহ দুই চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি টলি গাড়িও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুই চালক, সার ডিলারসহ চারজনের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গাফফারের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে কাটখাল ইউনিয়ন এলাকায় টলিতে করে অবৈধভাবে সার স্থানান্তরের সময় চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আটক দুই চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়া, সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন এবং লিটন নামের আরও একজনসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি বলেন, “কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত ও বরাদ্দকৃত সার কালোবাজারি বা পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বর্তমানে উদ্ধার করা ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার এবং জব্দ করা দুটি টলি মিঠামইন থানা হেফাজতে রয়েছে।