বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচের পদত্যাগ, সামনে সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচের পদত্যাগ, সামনে সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
 দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করবেন।

ভুচিচের পদত্যাগের ফলে সার্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও খুলে গেছে। তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের মে মাসে। তবে সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন।

সার্বিয়ায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। ২৫ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে এসএনএস সরকার গঠন করতে পারলে নতুন সংসদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে। সে ক্ষেত্রে ভুচিচের সরকারপ্রধান হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভুচিচের পদত্যাগের পর সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন। দেশটির আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।

আন্দোলনের সূত্রপাত

ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায়। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা জবাবদিহি, দুর্নীতির তদন্ত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। পরে সেই আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যোগ দেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রেলস্টেশন সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ওই ঘটনার পর থেকেই ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকে।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শ্রমিক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন যুক্ত হয়। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আগাম নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সামনে দুই দফা নির্বাচন

ভুচিচের পদত্যাগের ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সার্বিয়ায় সংসদ ও প্রেসিডেন্ট—দুই নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে আগাম সংসদ নির্বাচন। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ভুচিচ সংসদ ভেঙে দিয়ে ২৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন।

নির্বাচনে ভুচিচের এসএনএসকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্টস উইন’ আন্দোলন নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে। কয়েকটি বিরোধী দলও এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে। তাদের প্রচারের মূল ইস্যু দুর্নীতির তদন্ত, সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো।

এক যুগ ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে

২০১২ সাল থেকে সার্বিয়ার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আলেকসান্দার ভুচিচ। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এবার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন।

তাঁর শাসনামলে সার্বিয়া একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

পদত্যাগের আগে ভুচিচ আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ৪৯ জনকে ক্ষমা করেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

এখন ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদ নির্বাচনই ভুচিচের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তিনি আবার সার্বিয়ার সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ফিরতে পারবেন কি না।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।