প্রমাণ ছাড়া অর্থ আত্মসাতের দায় নয়: হাইকোর্ট
সরকারি অফিসে আর্থিক ঘাটতি পাওয়া গেলেই তা অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য করা যায় না। অপরাধ প্রমাণে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ; কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না, এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসের ১৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা ৯৪ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুককে খালাস দিয়ে এ রায় দেন আদালত। বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর একক বেঞ্চ তাঁর ফৌজদারি আপিল মঞ্জুর করেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা দায়িত্ব হস্তান্তর না করার ঘটনা সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। তবে সন্দেহ যত জোরালোই হোক, তা অপরাধ প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, আর্থিক ঘাটতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। শুধু অর্থের হিসাব না মেলা কিংবা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায় নিশ্চিত করা যায় না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা ৯৪ পয়সার আর্থিক ঘাটতি ধরা পড়ে। অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুক দায়িত্ব হস্তান্তর না করে আত্মগোপন করেন।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।
পরে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর লালমনিরহাটের বিশেষ জজ আদালত তাঁকে দুই ধারায় মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল করেন ওমর ফারুক।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, লালমনিরহাট প্রধান ডাকঘর থেকে ৯ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হলেও সেই অর্থ আদিতমারী পোস্ট অফিসে জমা বা গ্রহণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলার নথি, উপস্থাপিত প্রমাণ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডের রায় বহাল রাখেননি। বরং সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুককে খালাস দেন।
এই রায়ে অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে সন্দেহের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য ও নথিপত্রের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি আদালতে তা আইনসম্মতভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে।












Disqus comments are not configured yet.