বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

অষ্টগ্রামে ভেঙে ফেলা ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের দাবি

আলী রহমান খান প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অষ্টগ্রামে ভেঙে ফেলা ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের দাবি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের দাবি উঠেছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থাপনা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা। সংসদ সদস্যও স্থাপনাটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ অষ্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি অংশ। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের কাছে স্থাপনাটি ছিল আবেগ ও রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয় এবং এর ইট খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, “এর সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশ থেকে জিয়াউর রহমানের সব স্মৃতি মুছে ফেলার যে নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল, জিয়া প্যাভিলিয়ন তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে চরম রাজনৈতিক আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদ জিয়ার স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য প্যাভিলিয়নটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “ভাঙচুরের পর থেকে বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই স্মৃতিচিহ্ন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে—এটি ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের সংকল্প। বর্তমানে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা তাঁকে দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছি। অনতিবিলম্বে জিয়া প্যাভিলিয়ন পুনর্নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “জিয়া প্যাভিলিয়ন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অষ্টগ্রামে ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণ করা হবে। তাঁদের মতে, স্থাপনাটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে অষ্টগ্রামের ক্রীড়া, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি স্মৃতিচিহ্ন আবারও ফিরে আসবে।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে শাহীন আলম বাবু (৩০) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এ দণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাহীন আলম বাবু উপজেলার তারাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি একসময় চা বিক্রি ও মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহীন আলম বাবু দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পাকুন্দিয়া থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাঁকে বসতঘরে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র ও একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন (পিপিএম) বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শাহীন আলম বাবুকে পুলিশি পাহারায় কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের সামনে ও বাজার এলাকায় বখাটেদের উৎপাত এবং ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

কটিয়াদীতে কৃষিজমির গর্তের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে কৃষিজমির গর্তের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাড়ির পাশের কৃষিজমির গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে হুমাইসা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে পৌর এলাকার কামারকোনা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হুমাইসা নরসিংদী সদর উপজেলার রকি মিয়ার মেয়ে। তার মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করেন। পরিবারের বাড়ি নরসিংদীতে হলেও হুমাইসা ছোটবেলা থেকেই কটিয়াদী পৌর এলাকার কামারকোনা মহল্লায় তার নানাবাড়িতে থাকত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সবার অজান্তে বাইরে চলে যায় হুমাইসা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের কৃষিজমির একটি গর্তে জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জিতলেন গুরুদয়াল কলেজের ক্যাডেট মারিয়া

রেজুওয়ানুল হক পূর্ণ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জিতলেন গুরুদয়াল কলেজের ক্যাডেট মারিয়া

জাতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের বিএনসিসি প্লাটুনের ক্যাডেট মোছা. মারিয়া আক্তার। ২য় জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ এ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই অর্জনে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ পরিবারে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এ আসরে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে মারিয়া নিজের ক্রীড়ানৈপুণ্য, অধ্যবসায় ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দিয়েছেন।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

প্রতিযোগিতা শেষে কলেজে ফিরলে ক্যাডেট মোছা. মারিয়া আক্তারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুল্লাহ এবং কলেজের বিএনসিসি প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (পিইউও) মো. মতিউর রহমান। তাঁদের এ অভ্যর্থনা মারিয়ার অর্জনের প্রতি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও উৎসাহের বহিঃপ্রকাশ।

মারিয়ার এ সাফল্য গুরুদয়াল সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের জন্য গৌরবের। তাঁর এই অর্জন কলেজের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিএনসিসির অন্যান্য ক্যাডেটকে ক্রীড়াক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন এবং জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের পক্ষ থেকে ক্যাডেট মোছা. মারিয়া আক্তারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়েছে।