কটিয়াদীতে ১৪ কোটি টাকার সড়ক উদ্বোধন, জামায়াতকে ‘মিথ্যাবাদীর দল’ বললেন এমপি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘এরা হলো মিথ্যাবাদীর দল। ইসলামের নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে এরা।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। কটিয়াদী হেডকোয়ার্টার থেকে পিরিজপুর জিসি হয়ে অড়িয়াধর পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাজটি বাস্তবায়িত হবে। কটিয়াদী উপজেলায় দুটি স্কিমের সমন্বয়ে একটি প্যাকেজের প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৩ টাকা ৮৮ পয়সা। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এটি সরকারের বিশেষ বরাদ্দের একটি উন্নয়নকাজ। জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা আজ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সড়কটি সরকারের সাধারণ প্রকল্পের আওতায় নয়। অনেক আগে আম্পান নামে একটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল। ওই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্প থেকেই ৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সড়ক না থাকলে মানুষের মানসম্মত জীবনযাপন ব্যাহত হয়। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হলে মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কও বাধাগ্রস্ত হয়। যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকলে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলতেও আগ্রহ হারায়। তাই এলাকার উন্নয়নে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে নির্মাণসামগ্রী রাখার জায়গা নিশ্চিত করা, গাছ অপসারণসহ কাজের স্বার্থে যেসব সহযোগিতা প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতদের ভাতা প্রদানসহ কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে জালাল উদ্দিন বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় অনেকে তা বিশ্বাস করেননি। বরং ‘জান্নাতের ট্রেনে চড়ে দ্রুত জান্নাতে যাওয়ার’ আশায় থাকা একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে অনেকে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এখন তাঁরা নিজেদের আগের বক্তব্য অস্বীকার করছেন। সংসদেও দাঁড়িয়ে এসব কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এরা হলো মিথ্যাবাদীর দল। ইসলামের নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে এরা।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিঞা, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা এহতেশামুল হক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, মিজানুর রহমান স্বপন, শফিকুর রহমান বাদল, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, শরাফ উদ্দিন লস্কর ও আতিকুর রহমান আতিক; কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হক মেনু; উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ আলী; উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু; জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূইয়া শ্যামল, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক এবং লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল মতিন জুয়েল। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ হলে জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা তাঁদের। এখন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।










Disqus comments are not configured yet.