বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ১৪ কোটি টাকার সড়ক উদ্বোধন, জামায়াতকে ‘মিথ্যাবাদীর দল’ বললেন এমপি

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ১৪ কোটি টাকার সড়ক উদ্বোধন, জামায়াতকে ‘মিথ্যাবাদীর দল’ বললেন এমপি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘এরা হলো মিথ্যাবাদীর দল। ইসলামের নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে এরা।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। কটিয়াদী হেডকোয়ার্টার থেকে পিরিজপুর জিসি হয়ে অড়িয়াধর পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাজটি বাস্তবায়িত হবে। কটিয়াদী উপজেলায় দুটি স্কিমের সমন্বয়ে একটি প্যাকেজের প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৩ টাকা ৮৮ পয়সা। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এটি সরকারের বিশেষ বরাদ্দের একটি উন্নয়নকাজ। জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা আজ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সড়কটি সরকারের সাধারণ প্রকল্পের আওতায় নয়। অনেক আগে আম্পান নামে একটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল। ওই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্প থেকেই ৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সড়ক না থাকলে মানুষের মানসম্মত জীবনযাপন ব্যাহত হয়। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হলে মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কও বাধাগ্রস্ত হয়। যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকলে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলতেও আগ্রহ হারায়। তাই এলাকার উন্নয়নে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে নির্মাণসামগ্রী রাখার জায়গা নিশ্চিত করা, গাছ অপসারণসহ কাজের স্বার্থে যেসব সহযোগিতা প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

এ সময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতদের ভাতা প্রদানসহ কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে জালাল উদ্দিন বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় অনেকে তা বিশ্বাস করেননি। বরং ‘জান্নাতের ট্রেনে চড়ে দ্রুত জান্নাতে যাওয়ার’ আশায় থাকা একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে অনেকে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এখন তাঁরা নিজেদের আগের বক্তব্য অস্বীকার করছেন। সংসদেও দাঁড়িয়ে এসব কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এরা হলো মিথ্যাবাদীর দল। ইসলামের নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে এরা।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিঞা, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা এহতেশামুল হক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, মিজানুর রহমান স্বপন, শফিকুর রহমান বাদল, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, শরাফ উদ্দিন লস্কর ও আতিকুর রহমান আতিক; কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হক মেনু; উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ আলী; উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু; জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূইয়া শ্যামল, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক এবং লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল মতিন জুয়েল। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ হলে জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা তাঁদের। এখন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তিন বছরে কেউ পাস না করা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তিন বছরে কেউ পাস না করা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়ায় আলোচনায় আসা আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

আবুল কাসেম উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি তিনি ছয়সূতী জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়ারচর বাজারের টিন ব্যবসায়ী মো. মুক্তার মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর ৮৮(৪)/২০২৬।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১২ সালে আবুল কাসেম বাদী মো. মুক্তার মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। এ সময় লিখিত স্ট্যাম্পে দেনা স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পাওনা টাকা আদায়ে আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, এর আগে আবুল কাসেম প্রতিষ্ঠিত কলেজটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। টানা তিন বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৪ সালে দুজন, ২০২৫ সালে ছয়জন এবং ২০২৬ সালে সাতজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিন বছরে মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার।

একদিকে নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজে টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা- দুই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবুল কাসেম।

এ বিষয়ে আবুল কাসেমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

তাড়াইলে বড় পর্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন দেখল শিক্ষার্থী-খুদে খেলোয়াড়েরা

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বড় পর্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন দেখল শিক্ষার্থী-খুদে খেলোয়াড়েরা

সারাদেশের ৫০৩টি উপজেলার সঙ্গে একযোগে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্প্রচার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্ষুদে খেলোয়াড় ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী, তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল হাসান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসিফুর রহমান নাদিম। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদে খেলোয়াড়, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংগঠকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা স্টেডিয়ামে হাজারো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। বড় পর্দায় এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকেরা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্য চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মূল উদ্দেশ্য। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে সারাদেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

প্রথম আসরের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট ১০টি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। এবারের আসরের স্লোগান—‘খেলাধুলা পেশা, পরিবারের নিশ্চয়তা’।

তাড়াইল উপজেলাতেও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রতিযোগী বাছাই করে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন করে নামী-দামি বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার নিয়ামতপুর বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত বাজার তদারকিমূলক অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নকল ভূষি উৎপাদন করে নামী-দামি বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স ইভা এন্ড স্নিগ্ধা এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তাইয়্যেবা সুইটসকে ২০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের অপরাধে মেসার্স সাফায়াত এন্টারপ্রাইজকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার তানজীনা বেবী এবং জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাজার তদারকির পাশাপাশি জনস্বার্থে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং দোকানের দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে।

ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং বাজারে অনিয়ম ও প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।