রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে মাধ্যমিকের ২৯ শতাংশ বই ছাপা বাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে মাধ্যমিকের ২৯ শতাংশ বই ছাপা বাকি

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। অথচ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের প্রায় ২৯ শতাংশ এখনো ছাপা হয়নি। বিপরীতে প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণের কাজ প্রায় শেষ। ফলে নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাধ্যমিকের বই ছাপা ও সরবরাহ।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে। এসব বইয়ের ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ সরবরাহও সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিকের বই মুদ্রণ ও বিতরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি এখনো ৭১ শতাংশের কিছু বেশি। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফার দরপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি ছাপা হয়েছে। সরবরাহের হার ৬৫ শতাংশের বেশি। ফলে মাধ্যমিকের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বই ছাপা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর কাজ এখনো বাকি।

এনসিটিবির লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ বই ছাপিয়ে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে হলে অবশিষ্ট সময়ে মুদ্রণ ও পরিবহন—দুই ক্ষেত্রেই গতি বাড়াতে হবে।

বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ থেকে গত দুই শিক্ষাবর্ষে অনেক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে। সময়মতো বই ছাপা ও সরবরাহ করতে না পারায় পাঠদান কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে শতভাগ বই সরবরাহ করতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছায়। তার আগের শিক্ষাবর্ষে বই বিতরণ সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল।

এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে আগেভাগেই মুদ্রণকাজ শুরু করেছে এনসিটিবি। প্রাথমিকের বই ছাপা প্রায় শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মাধ্যমিকের বই ছাপায় বেশি মনোযোগ দিতে পারছে। একই সঙ্গে দ্রুত বই বাঁধাই, কাটিং ও মান যাচাইয়ের কাজ শেষ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স

এবারের বই বিতরণ কার্যক্রমে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও চারটি বই। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বই চারটির মোট সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এগুলো ছাপার জন্য ৮ নভেম্বর মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার কথা রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মুদ্রণকাজ শুরু হবে। এসব বই আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ সাধারণ পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নতুন চারটি বইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপিয়ে সরবরাহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের জন্য প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার বই এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২২ কোটির বেশি বই রয়েছে।

সব মিলিয়ে বই ছাপা ও সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বইও এ কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন মাধ্যমিকের বইয়ে বেশি সময় দিতে পারবে। প্রাথমিকের বই চার রঙে এবং মাধ্যমিকের বই এক রঙে ছাপানো হয়। ফলে মাধ্যমিকের বাকি বই ছাপার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসেরের আশা, এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে মুদ্রণের অগ্রগতি আর শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো এক বিষয় নয়। বাকি বই ছাপা, বাঁধাই, মান যাচাই, পরিবহন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্নে শেষ করতে না পারলে নতুন বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই বিতরণের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ কাঞ্চন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাঙ্গাইলের পাঠানপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার কাঞ্চন মিয়া করিমগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত শাজাহান ওরফে ইসমাইলের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামছুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী।

সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলমসহ অন্যরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, বেকারত্ব দূর করা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সমবায় কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সমবায় সমিতিগুলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

বক্তারা সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সমবায় সমিতির সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান

কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে কিশোরগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে শহরের খরমপট্টি এলাকার সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিপি অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নবীউল ইসলাম এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপসহকারী নিবন্ধক শাহানারা হাসিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায় শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। সমবায়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমবায় সমিতিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সমবায়ের আদর্শ ও চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।