হোসেনপুরে হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার হালচাষ এখনও জীবিত
দেশের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির আগমনে হারিয়ে গেছে পুরাতন অনেক পদ্ধতি। বিশেষ করে গরু ও লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ আজকাল কমই দেখা যায়। সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরেও একসময় কৃষি কাজে ব্যবহৃত হতো হাল, লাঙ্গল ও মই। তবে সোমবার হোসেনপুর উপজেলার জগদল গ্রামে শহিদ মিয়া নামের এক কৃষককে গরু ও লাঙ্গল দিয়ে ধানের বীজতলা তৈরি করতে দেখা গেছে।
শহিদ মিয়া জানান, হাল চাষের জন্য এক জোড়া বলদ গরু, লাঙ্গল-জোয়াল, মই, গরু তাড়ানোর লাঠি ও গরুর মুখের টোনা লাগে। গরুর লাঙ্গল মাটির গভীরে গিয়ে মাটি উল্টিয়ে দেয়, এতে জমিতে ঘাস কম হয় এবং গরুর গোবর জমিতে পড়ে, যা জৈব সার হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, “পাওয়ারটিলারের আগমনে গরু দিয়ে হালচাষের কদর কমে গেছে, কিন্তু বীজতলার জন্য হাল এখনও কার্যকর।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম শাহজাহান কবির জানান, চরাঞ্চলে এখনো গরুর লাঙ্গলে জমি চাষাবাদ করা হয়। এটি শুধু ফসলের উর্বরতা বৃদ্ধি করে না, বরং গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও কৃষিকাজের সঙ্গে মানুষের হাজার বছরের সম্পর্কও ধরে রাখে।







