মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় করিমগঞ্জে জমজমাট জার্সি ও পতাকার বাজার

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় করিমগঞ্জে জমজমাট জার্সি ও পতাকার বাজার

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবমুখর প্রস্তুতি। আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা। বিশেষ করে প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কেনাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাজারগুলো।

মঙ্গলবার (৯ জুন) করিমগঞ্জ বাজারের ফুটপাত, স্পোর্টস মার্কেট ও বিভিন্ন পোশাকের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সি ও পতাকার বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি সংগ্রহে ভিড় করছেন। কেউ নিজের জন্য, কেউবা সন্তান কিংবা প্রিয়জনের জন্য জার্সি কিনছেন।

বরাবরের মতো এবারও মাঠের বাইরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী ও নিজেদের দলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের প্রতিযোগিতা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী উৎপল কুমার পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ম্যারাডোনার নাম শুনে বড় হয়েছি। পরে মেসির খেলা দেখে তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। এবারও আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি এবং বাসায় দলের পতাকা টানিয়েছি। আশা করি, শিরোপা আবারও আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে।”

পিছিয়ে নেই ব্রাজিলের সমর্থকরাও। ছেলের জন্য জার্সি কিনতে আসা সানরাইজ আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার মিঠু বলেন, “ব্যস্ততার কারণে আগের মতো খেলার বিশ্লেষণ করা হয় না। তবে ব্রাজিলের খেলা সবসময়ই ভালো লাগে। নেইমারের ফুটবল দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার দুই ছেলেও ব্রাজিলের সমর্থক। তাই চাইব, শিরোপা ব্রাজিলের ঘরেই ফিরুক।”

চিরাচরিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে এবার অন্যান্য দলের প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জনপ্রিয়তাকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের জার্সি-পতাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের জার্সিও বিক্রি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

বিশ্বকাপ ঘিরে চাহিদা বাড়লেও কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে জার্সির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এ নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সাধারণ মানের জার্সি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও উন্নতমানের জার্সির দাম দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

করিমগঞ্জ বাজারের ‘আনোয়ার স্পোর্টস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার শাহ বলেন, “ফ্যাক্টরি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জার্সি সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় দাম অনেকটা বেড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জার্সি সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

‘ডিঙ্গি ফ্যাশন পয়েন্ট’-এর মালিক সত্যজিৎ মোদক শুভ বলেন, “বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সির বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সির চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। তবে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।”

বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোকাল মানের জার্সির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্যান এডিশন ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, প্লেয়ার কপি ৯০০ থেকে ১,১০০ টাকা এবং প্লেয়ার এডিশনের জার্সির দাম ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। শিশুদের জার্সি ২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মানভেদে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, তিন থেকে সাড়ে তিন ফুটের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, পাঁচ ফুটের পতাকা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের বড় পতাকা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জার্সি ও পতাকার পাশাপাশি ফুটবল, বুট, গোলকিপিং গ্লাভস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলের বিক্রিও বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে বিক্রি এবং ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস।

বাজিতপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কিশোরীদের আত্মকর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি এবং ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে প্রকল্পভুক্ত ‘স্বপ্নসারথী’ দলের ১৪ জন কিশোরী অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বাজিতপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালনকে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা কার্যক্রম হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

প্রশিক্ষণে হাঁস-মুরগির রোগব্যাধি প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খামার পরিচালনা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা আগ্রহের সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও বাস্তবমুখী পরামর্শ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির অফিসার মো. জুয়েল মিয়া এবং কমিউনিটি অর্গানাইজার কহিনুর আক্তার।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত থেকে কিশোরীদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মিজানুর রহমান এবং শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. আব্দুল মান্নান।

বক্তারা বলেন, কিশোরীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে তারা বাল্যবিবাহ, শিক্ষাঝরে পড়া এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় অধিক সক্ষম হয়ে উঠবে।

তারা আরও বলেন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক এ ধরনের প্রশিক্ষণ কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা তাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগে হাঁস-মুরগি পালন শুরু করতে আগ্রহী। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলে তারা উপকৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

ধুলিহরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর; মামলার বাদীর পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর; মামলার বাদীর পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে মুখর এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শত শত নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ধুলিহর এলাকায় হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধুলিহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৩ জুন উপজেলার ধুলিহর এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, মামলার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বাদী পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, “একটি শিশুর ওপর এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রবণতা কমবে।”

মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসী জানান, মামলার অগ্রগতি এবং অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখা গেলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি ও বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গোলপুকুরপাড়ে রক্তাক্ত দুই যুবক, একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
গোলপুকুরপাড়ে রক্তাক্ত দুই যুবক, একজনের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে দুই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা দুই যুবকের মধ্যে রনি (১৯) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর যুবক আসিফ (২০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে হোসেনপুর উপজেলার আদুমাস্টার বাজার সংলগ্ন গোলপুকুরপাড় এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে হোসেনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রনি ও আহত আসিফের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায়। তবে তারা কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং কী কারণে এ দুর্ঘটনা বা হামলার শিকার হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই যুবকের শরীর ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে রনির মাথা থেঁতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরনে বাদামি রঙের গেঞ্জি ও কালো-বাদামি ডোরাকাটা প্যান্ট ছিল। অপরদিকে আহত আসিফের পরনে ছিল কালো রঙের পোলো শার্ট। তার মাথা ও মুখে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে।

উদ্ধারের পর আহত আসিফকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গোলপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “সকালে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি দুই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একজনের মাথা থেঁতলে গেছে। তারা কারা বা কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে তখন কেউ কিছু বলতে পারেনি।”

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা হতে পারে। আবার কেউ কেউ পরিকল্পিত হামলা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহত দুইজনকে উদ্ধার করে। নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আহত যুবকের জ্ঞান ফিরলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বলে জানা গেছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আহত যুবকের বক্তব্য পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার রহস্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।