মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় করিমগঞ্জে জমজমাট জার্সি ও পতাকার বাজার

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় করিমগঞ্জে জমজমাট জার্সি ও পতাকার বাজার

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবমুখর প্রস্তুতি। আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা। বিশেষ করে প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কেনাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাজারগুলো।

মঙ্গলবার (৯ জুন) করিমগঞ্জ বাজারের ফুটপাত, স্পোর্টস মার্কেট ও বিভিন্ন পোশাকের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সি ও পতাকার বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি সংগ্রহে ভিড় করছেন। কেউ নিজের জন্য, কেউবা সন্তান কিংবা প্রিয়জনের জন্য জার্সি কিনছেন।

বরাবরের মতো এবারও মাঠের বাইরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী ও নিজেদের দলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের প্রতিযোগিতা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী উৎপল কুমার পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ম্যারাডোনার নাম শুনে বড় হয়েছি। পরে মেসির খেলা দেখে তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। এবারও আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি এবং বাসায় দলের পতাকা টানিয়েছি। আশা করি, শিরোপা আবারও আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে।”

পিছিয়ে নেই ব্রাজিলের সমর্থকরাও। ছেলের জন্য জার্সি কিনতে আসা সানরাইজ আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার মিঠু বলেন, “ব্যস্ততার কারণে আগের মতো খেলার বিশ্লেষণ করা হয় না। তবে ব্রাজিলের খেলা সবসময়ই ভালো লাগে। নেইমারের ফুটবল দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার দুই ছেলেও ব্রাজিলের সমর্থক। তাই চাইব, শিরোপা ব্রাজিলের ঘরেই ফিরুক।”

চিরাচরিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে এবার অন্যান্য দলের প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জনপ্রিয়তাকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের জার্সি-পতাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের জার্সিও বিক্রি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

বিশ্বকাপ ঘিরে চাহিদা বাড়লেও কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে জার্সির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এ নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সাধারণ মানের জার্সি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও উন্নতমানের জার্সির দাম দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

করিমগঞ্জ বাজারের ‘আনোয়ার স্পোর্টস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার শাহ বলেন, “ফ্যাক্টরি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জার্সি সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় দাম অনেকটা বেড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জার্সি সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

‘ডিঙ্গি ফ্যাশন পয়েন্ট’-এর মালিক সত্যজিৎ মোদক শুভ বলেন, “বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সির বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সির চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। তবে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।”

বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোকাল মানের জার্সির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্যান এডিশন ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, প্লেয়ার কপি ৯০০ থেকে ১,১০০ টাকা এবং প্লেয়ার এডিশনের জার্সির দাম ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। শিশুদের জার্সি ২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মানভেদে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, তিন থেকে সাড়ে তিন ফুটের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, পাঁচ ফুটের পতাকা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের বড় পতাকা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জার্সি ও পতাকার পাশাপাশি ফুটবল, বুট, গোলকিপিং গ্লাভস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলের বিক্রিও বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে বিক্রি এবং ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।