শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ফ্যাসিস্ট নূর মোহাম্মদে প্রভাবিত রেলওয়ে কর্মকর্তা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফ্যাসিস্ট নূর মোহাম্মদে প্রভাবিত রেলওয়ে কর্মকর্তা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার

কিশোরগঞ্জে রেলওয়ের একটি রেল চেক (ক্রসিং রাস্তা) নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে মানিকখালী রেলস্টেশনের কাছে এই রেল চেক তৈরি করা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান শেখ হাসিনার আমলে ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠা সাবেক পুলিশ প্রধান, পরবর্তীতে সচিব ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনকারী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ব্যক্তিগত যাতায়াত সুবিধার্থে। স্থানীয়দের দাবি, ফ্যাসিস্ট আমলের দোসর ও স্বৈরাচারের সহচর হিসেবে পরিচিত নূর মোহাম্মদ এখনও তার অবৈধ অর্থ ও পুরোনো ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ও রেল প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করছেন।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদি উপজেলার মানিকখালী রেলস্টেশনের নিকট সেকশন কি.মি. ২৬৫/৪–৫ এলাকায় রেল চেক নির্মাণ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, “সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়ার এমন দৃশ্য এই প্রথম দেখলাম।” এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান রাজনের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় নূর মোহাম্মদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও দোসর সম্পর্কের কারণে সরকারি কাজকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রেলওয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, এই ধরনের রেল ক্রসিং নির্মাণে বাংলাদেশ রেলওয়ের General Instruction Book of Railway (GIBR) অনুযায়ী লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক এবং গেটম্যান নিয়োগ ছাড়া কোনো রেল চেক চালু করা যায় না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (সি–ই) তানভীর আহম্মেদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন–২) আহসান হাবীব বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপসহকারী প্রকৌশলী (এইএন), ভৈরববাজার, জাহিদ হাসান জানান, “মানিকখালী এলাকায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।”

অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) আনিসুজ্জামান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় মেরামতের কাজই করা হয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেউ অনিয়ম, অবৈধ অর্থের প্রভাব ও ফ্যাসিস্ট আমলের দোসরদের ছায়াশক্তির আশঙ্কা করছেন; কেউ আবার বিশ্বাস করছেন তদন্তের পর সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—নূর মোহাম্মদ তার পূর্বের ক্ষমতা ও সুবিধাভোগী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করছেন এবং সরকারি সম্পদ নিজের সুবিধায় কাজে লাগাচ্ছেন।

কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হোসেনপুর থানা পুলিশ-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢেকিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. খাইরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে অপর অভিযানে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রাম থেকে মোছা. নাছিমা আক্তার নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রিটন মেম্বারের বোন বলে জানা গেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযান পরিচালনা করেন হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন ও এসআই ঈদুল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৭/০৯। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদ্যোগে ‘মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন জেলখানা রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, হাসপাতালের পরিচালক রিয়াদ আহমেদ তুষার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও হয়বতনগর ইউএল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এ কে নাছিম খান এবং কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

পরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার আফরিন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা অংশ নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল বর্জ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।